আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে রাজবাড়ী থেকে যা বললেন


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৮:০৩ অপরাহ্ণ ,১৭ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট: ৫:০০ অপরাহ্ণ ,১৯ এপ্রিল, ২০২০
প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে রাজবাড়ী থেকে যা বললেন

রাজবাড়ী প্রতিনিধি।। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে ভিডিও কনফারেন্সে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক দিলসাদ বেগম বলেন- করোনাভাইরাসের সংক্রমনের ফলে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে আপনি যে ৩১ দফা নির্দেশনা দিয়েছিলেন তার আলোকে রাজবাড়ী জেলায় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগীয় কর্মকর্তাগন সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগন মিলে আমরা একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। রাজবাড়ী জেলায় এ পর্যন্ত ৬ জনকে পাওয়া গেছে করোনাভাইরাসের সংক্রমিত, এর মধ্যে প্রথমে ১১ তারিখে যে ৫জনকে পাওয়া গেছে তাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যারা মিশেছেন এমন ৫২ জনকে পরিক্ষা করে আর কাউকে সংক্রমিত পাওয়া যায়নি। এ জেলায় সরকাররি এবং বেসরকারি পর্যায়ে আমরা মোট ৪৭টি আইসোলেশন শয্যাকে নির্ধারিত করেছি। এছাড়া, কালুখালী উপজেলাতে একটি ৫০ শয্যার হাসপাতালকে সুনির্দ্দিষ্টভাবে করনো সংক্রমিত রোগীদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে। সেই হাসপাতালটিতে করোনা রোগীদের যেহেতু বিশেষায়ীত করতে হয় সেইজন্য সেখানে হাসপাতালে যে সাপোর্ট স্টাফ আছে বা ক্লিনিংয়ের জন্য যে সংখ্যাটা লাগে সেই সংখ্যার চেয়ে অনেকগুন বেশি স্টাফ আছে। আমরা যদি আউটসোর্সিংয়ের ভিত্তিতে স্থানীয়ভাবে তাদেরকে আমাদের সাথে কোনভাবে যুক্ত করতে পারি, তাহলে কেউ করোনা সংক্রমিত হলে আমরা তাদেরকে আরো অনেক ভালভাবে সেবা দিতে পারবো।

তিনি আরো বলেন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পর্যাপ্ত ত্রান এখানে সরবরাহ করার জন্য আপনার প্রতি অঅমরা কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি, এবং আপনি যেভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন, করোনার কারনে বিভিন্ন পেশার যারা কর্মহীন হয়েছে তাদেরকে আইডেন্টিফাই করে আমরা সেই ত্রান বিতরণ করছি। আর এই জেলাটি যেহেতেু দেশের দক্ষিনের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার, এখানে যে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট আছে, সেই ফেরিঘাটের সাথে যরা সংশ্লিষ্ট আছেন, এই সময়টিতে তাদের অনেকেই কর্মহীন হয়েছে, আমরা তাদেরও তালিকা করেছি। এবং বর্তমানে আমরা এমূহুর্তে ১২শ জনের ত্রান বিতরণ করছি, পর্যায়ক্রমে আরো বেশি বিতরণ করবো। এছাড়া দৌলতদিয়াতে একটি বিশেষায়িত এলাকা আছে, সেখানে স্বাস্থ্য ঝুঁকি থাকার কারনে জেলা পুলিশের মাধ্যমে মার্চের ২০ তারিখ থেকে লকডাউন করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন- এমূহুর্তে আমার সাথে আছেন, পুলিশ সুপার, সেনাবাহিনী, সিভিলসার্জন, সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যন, রাজবাড়ী পৌর মেয়র, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক, তথ্য অফিসার, ডিআরও এবং একজন সিনিয়র স্টাফ নার্স ।

ভিডিও কনফারেন্সে রাজবাড়ী পৌর মেয়র মেয়র মহাম্মদ আলী চৌধুরী বলেন- এই মহামারি করানা দূর্যগের সময় আপনি দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলের খবর নিচ্ছেন এইজন্য আপনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞতা জানাই।আমরা জেলা প্রশাসন, পুলিশ বাহিনী, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগ ও সাংবাদিকরা সবাই মিলে মহামারি করোনা মুক্ত হতে একসাথে কাজ করে যাচ্ছি। পৌরসভার মেয়র হিসাবে আমার যে দ্বায়িত্ব আমি সেটা করে যাচ্ছি। পৌরসভায় একটি কন্ট্রোলরুম স্থাপন করেছি, পৌর এলাকায় সচেতনামূলক প্রচার মাইকিং করেছি, সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করেছি, জীবানুনাশক ঔষধ স্প্রে করেছি, সড়ক সমূহে ব্লিসিং মিশ্রিত পানি ছিটানো অব্যাহত রেখেছি, প্রতিটি ওয়ার্ডে সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছি, পরিচ্ছন্নতা কর্মিদের মাঝে স্বাস্থ্য সুরক্ষা পোষাক বিতরণ করেছি, বিশেষ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলমান রয়েছে। আপনার নির্দেশনা অনুযায়ি রাজবাড়ী পৌর এলাকার বিভিন্ন শ্রেনী পেশা মানুষের তালিকা তৈরী করেছি।

পৌর মেয়র বলেন, আমাকে ৩৫ টন ভিজিএফ চাল প্রদান করেছেন।আমি সেই চাল দুস্থদের মাঝে বিতরণ করেছি ও বিতরণ অব্যাহত রেখেছি।

তিনি আরো বলেন- আমাদের রাজবাড়ী হতদরিদ্র কবলিত জেলা, আমাদের জেলা পদ্মানদীর ভাঙ্গন কবলিত জেলা, এই জেলার মানুষের জন্য আপনি অনেক সাহায্য দিচ্ছেন, তারপরেও আপনার প্রতি আকুল আবেদন করছি, এই জেলায় আপনি আরো সাহায্য দেবেন বলে আমি আশা করি। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা যেভাবে দেশ স্বাধিন করেছিল, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরাও আপনার সুদক্ষ নেতৃত্বে এই মহামারি করোনা থেকে বেড়িয়ে আসবো বা মুক্ত হবো ইনশাল্লাহ। তিনি আরো বলেন- ৩২৮টি পৌরসভার ৩০০টির অবস্থা ভাল নয়, আপনি বিভিন্ন জায়গায় প্রনাদনা দিচ্ছেন, আমার পৌর কর্মচারিদের জন্যও ব্যাবস্থা করবেন বলে আশা রাখি।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ফকীর আব্দুল জব্বার বলেন- ত্রান হিসাবে আমি জেলা পরিষদের জন্য ২০ লক্ষ টাকা পেয়েছি, খুব শিঘ্রিই এই টাকার খাদ্য বিতরণ করবো।

Comments

comments