আজ : বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ী রেল শ্রমিক কার্যালয় উদ্বোধনকালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ কি বল্লেন?


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৯:৪১ পূর্বাহ্ণ ,৮ মে, ২০১৮ | আপডেট: ১:৪৮ অপরাহ্ণ ,৮ মে, ২০১৮
রাজবাড়ী রেল শ্রমিক কার্যালয় উদ্বোধনকালে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এ কি বল্লেন?

নিজস্ব প্রতিনিধি ।। রেলওয়ের উন্নয়নের স্বার্থে রাজবাড়ীতে রেলওয়ে কোয়ার্টার থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করতে হবে । যারা রেলের চাকরী করেন, তারা নিজে একটা বাসায় থেকে আবার আরো বাসা দখল করে নিয়ে তারা ভাড়া দিয়ে খাচ্ছে এভাবে চলতে পারেনা, একটা ব্যাবস্থা অবশ্যই করতে হবে, কারন আমি অন্যায়কে কখনও পশ্রয় দেবনা, সেগুলো ছাড়তে হবে । বাইরের লোকদের থেকেও দখলমুক্ত করতে হবে । আমি রেলমন্ত্রীকে বলেছি, আমি চাই বাসা রেল কতৃপক্ষ ভাড়া দেক এবং সরকারের ঘড়ে টাকা জমা পরুক । সরকারের উন্নয়ন হোক, রেলের উন্নয়ন হোক । বাসায় কারা থাকছে তার একটা টোল লিষ্ট করেন, কতগুলো কোয়াটার আছে ? কতজন রেলের লোক থাকে, আর কতজন ভাড়া ছাড়া থাকতেছে তার একটা লিষ্ট করতে হবে, লিষ্ট করে আপনার হেট অফিসে পাঠান, মিডিয়াকে জানান । আর তা-না হলে আমি সামনের ১৩ই মে তারিখে ডিসি অফিসে আইন শৃঙ্খলা মিটিং আছে, সেই মিটিংয়ে কথাটা তুলবো কিন্তু আমি বলে গেলাম । এ কথা বলেছেন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী,এমপি ।

গতকাল ৭ই মে দুপুরে প্রতিমন্ত্রীর সংবর্ধণা ও বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগ রাজবাড়ী কার্যালয় উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ্যাড. হুমায়ন কবির, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোঃ হাবিবুর রহমান আকন্দ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোঃ আজিজুল হক আজিজ, বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগ ঈশ্বরদী আঞ্চলিক শাখার সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম ও রাজবাড়ী জেলা জাতীয় শ্রমিকলীগের সভাপতি মোঃ রকিবুল ইসলাম পিন্টু বক্তব্য রাখেন ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ রেলওয়ে শ্রমিকলীগ রাজবাড়ী জেলা শাখার সভাপতি মোঃ মোসলেম উদ্দিন ফকির ও পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মোঃ সরওয়ার আলম সেলিম ।


দেশে রেলের উন্নয়ন তুলেধরে তিনি বলেন- পশ্চিমাঞ্চলে রেলের কোন উন্নয়ন ছিলনা, সকল উন্নয়ন হতো পূর্বাঞ্চলে । জননেত্রী শেখ হাসিনার আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে আমাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া ভাটিয়াপাড়া রেল লাইন, রাজবাড়ী-ফরিদপুর রেল লাইন আমরা চালু করেছি । গতকাল আপনারা টিভিতে দেখেছেন যে পরিক্ষার রেজাল্ট দেওয়ার অনুষ্ঠানে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বরিশালের লোক কোনদিন রেল দেখেনাই সেখানেও আমরা রেল চালু করবো ।
ইতিমধ্যে আমি একটা ডিওলেটার দিয়েছি যে, আমাদের রাজবাড়ী রেলষ্টেশন, গোয়ালন্দ রেলষ্টেশন এবং দৌলতদিয়া ও দৌলতদিয়া রেলষ্টেশন সংস্কার করার প্রয়োজন । আমাদের পাশ্ববর্তি ভারতে যাই সেই ষ্টেশনগুলোতে সেবার মান এত ভাল যে সেখানে উন্নত পানি খাওয়ার ব্যাবস্থা আছে, বসার ব্যাস্থা আছে সেগুলো যখন দেখি তার তুলনায় আমরা কিন্ত অনেক পিছিয়ে আছি । সেই জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনা উদ্যোগ নিয়েছেন এখান(রাজবাড়ী) থেকে টুঙ্গিপাড়া পর্যন্ত রেল লাইন যাবে, ইনশাল্লাহ সেটাও হবে । সরকার সমগ্র বাংলাদেশে রেল ব্যাবস্থা উন্নয়ন করবে,ইনশাল্লাহ ।
রাজবাড়ীতে অডিটরিয়াম প্রসঙ্গে বলেন- রাজবাড়ীর অনেক লোকজন বলে যে, আমাদের রাজাবাড়ীতে কোন অডিটরিয়াম নাই, করতে গেলে শিল্পকলা একাডেমীও করে দিতেচায় ১হাজার আসন বিশিষ্ট, যায়গা রেলের জায়গা নাই । আমি শেষ পর্যন্ত ডিওলোটার দিলাম ১বছর হয়ে গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেষ পর্যন্ত রেলমন্ত্রীকে ডেকে আমার সামনে বলে দিলেন যে তোমরা আজাদী ময়দানটা ভেঙ্গে সেখানটায় ভাড়াদিয়ে একটা অডিটরিয়াম করবা । ইতিমধ্যে আগের জিএম চলে গেলেন, নতুন জিএমও চলে গেলেন, আমি রাজশাহী গিয়েছিলাম সে সার্কিট হাউজে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত জিএম যে আছেন তাকে ডেকে এনে কথা বলেছি পরবর্তিতে ঢাকা যেয়ে ডিজি’র সাথে কথা বলার পর সে তার ইঞ্জিনিয়ারকে বলেদিয়েছে রাজবাড়ীতে একটা অডিটরিয়াম করার জন্য, আমরা চাচ্ছি নির্বাচনের আগেই সেটা করতে ।


রাজবাড়ী রেলস্টেশনগুলো রিমডেলিং প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন- আজকে শুনলাম জিএম সাহেব অচিরেই নাকি পাংশা রেলস্টেশন রি-মডেলিং করতে চাচ্ছেন, আমি বলবো আগে রাজবাড়ী রেলস্টেশন থেকে শুরু করবেন, তা-না হলে কাজ করতে দেয়া হবেনা । আমরা বলেছি আগে রাজবাড়ীরটা উন্নত করতে হবে । তারপর পাংশারটা করেন, গোয়ালন্দরটা করেন সকলগুলোই করেন, কিন্ত রাজবাড়ীরটা আগে করতে হবে এটা আমাদের দাবি । কারন জেলা রাজবাড়ী, দির্ঘদিনের রেল জংশন রাজবাড়ী সেটাকে আগে উন্নত করতে হবে ।
এখানে যে লোকসেড ছিল সেটা চালু করা হবে এবং রাজবাড়ীতে ডিভিশন হবে ইনশাল্লাহ ।
কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন- আমরা কৃষি বান্ধব সরকার, আমরা শ্রমিক বান্ধব সরকার, শ্রমিক ভাই ও কৃষক ভাইরা যদি বেঁচে থাকে তাহলে আমাদের দেশ বাঁচবে থাকবে বলে আমি মনে করি । আজকে মঠে-ঘাটে দেখলে কি সুন্দর ধান দেখা যায়, দেখলে মন ভরে যায় । আগে ৭ কোটি লোক ছিল এখন ১৬ কোটি লোক । তবুওতো কেউ না খেয়ে মারা যাচ্ছে না, আজকে আমাদের সরকার কৃষকদেরকে সার-বীজ এগুলো সময়মতো দেওয়ার করনে ফসল অনেক উৎপাদন হচ্ছে । আপনারা পার্শ্ববর্তী ভারতসহ অন্যান্য দেশেও দেখেন যে, এখানে চাউলের দাম বেশী কি-না । চাল ও শাক-সব্জিসহ তুলনা মূলক একই রয়েছে, কৃষকরা ন্যাজ্য মূল্য পাচ্ছে । সে জন্য আমাদের দেশ কিন্ত উন্নয়নের দিকে এগুচ্ছে ।
কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব প্রসঙ্গে বলেন- জেনারেল লাইনে লেখা-পড়া শেষ করে চাকরী না হলে বেকার থাকতে হয়, আর কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হলে কাজ করে খেয়ে বেঁচে থাকা যায় । উন্নত দেশে ৭০% লোক কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত । আর আমাদের দেশে ১৪%। আমরা কারিগরি শিক্ষার উপরে গুরুত্ব দিয়েছে । ২০৩০ সালের মধ্যে ৩০% কারিগরি শিক্ষায় পরিপূর্ণ হবে ।
বিএনপি’র সরকারে অনাচার-অত্যাচার প্রসঙ্গে বলেন- এখন থেকেই আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে কাজ করবেন, কারন শেখ হাসিনার সরকার যদি ক্ষমতায় না আসতে পারে ভয়াবহ পরিনতি হবে, কারন তারা ক্ষমতায় আসলে মানুষ পুড়িয়ে মারবে, মিথ্যে মামলা-হামলা দিয়ে হয়রানি করবে । আজকে ক্ষমতায় আছি বিএনপি’র লোকরা কেউ বলতে পারবেনা যে মামলা দিয়ে হয়রানি করছি, এ কথা কেউ বলতে পারবেনা আল্লাহপাকের দোয়ায় । বিএনপির সময় পাংশায় লোকজনকে জোড়পূর্বক ধরে নিয়ে ১০লাখ টারা জমি ১লাখ টাকায় রেজিষ্ট্রি করে নিয়েছে, লোকজনকে মারপিট করেছে, হাতুরি দিয়ে দাঁত ভেঙ্গে দিয়েছে, মামলা দিয়ে হয়রানি করেছে, আমাদের লোকজন ঘড়ে থাকতে পারেনাই, বাজার-ঘাটে যাইতে দেয়নাই, কাউকে শান্তিতে থাকতে দেয়নাই । সেই কথা মনে রেখে আবার যাতে সেই জঙ্গীবাদ, সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি না হয় সেটা প্রতিহত করতে আমাদের সবার চেষ্টা করতে হবে । আমরা স্বধীনার পক্ষের চেতনায় যারা বিশ্বাস করি ও নৌকাকে ভালবাসি, আসুন আমরা সবাই মিলে-মিশে জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করি । পরিশেষে মন্ত্রী আগামী নির্বাচনে সবাইকে নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্যে আহ্ববান জানন ।

Comments

comments