আজ : শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

কে হতে যাচ্ছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান?


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৬:৪৪ অপরাহ্ণ ,১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ | আপডেট: ১:৪৮ পূর্বাহ্ণ ,১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
কে হতে যাচ্ছে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান?

নিজস্ব প্রতিবেদক।। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর-১৯ সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা এখন প্রচার প্রচারনায় ব্যাস্ত সময় পার করছেন। প্রতিদিন কাক ডাকা ভোর থেকে মধ্য রাত পর্যন্ত প্রার্থীরা ভোটাদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাধারন জনগন ও ভোটারদের মধ্যে বিরাজ করছে জল্পনা-কল্পনা আর উৎসবের আমেজ। সর্বত্রই এখন একই আলোচনা, কে হবেন জেলার গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়ার নতুন অভিভাবক ?

দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক দৌলতদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম মন্ডল (নৌকা) এবং আনারস মার্কা নিয়ে সতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদন্দীতা করছেন আব্দুর রহমান মন্ডল। তিনি গোয়ালন্দ উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি। জেলা নির্বাচন অফিস সুত্রে জানাগেছে, দৌলতদিয়া ইউপিতে মোট ভোটার সংখ্যা ২৫ হাজার ২৮৩ জন এবং দেবগ্রাম ইউপিতে ১১ হাজার ১০০ জন।

ভোটের আগে সকল প্রার্থী-ই নিজেকে সৎ, যোগ্য, নির্ভিক সমাজ সেবক গরিবের বন্ধু হিসাবে দাবি করে থাকেন। আসলেই কি তারা সৎ, না-কি গরীবের বন্ধু ? সে প্রমান মেলে জনপ্রতিনিধি হওয়ার পর, তার আগে বুঝে ওঠা মুস্কিল এমনটাই মনে করেন জনসাধারন।

নির্বাচন প্রসঙ্গে, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড ও গ্রাম ঘুরে বিভিন্ন মানুষের সাথে কথা হয়, এসময় ক্যামেরার সামনে কেউ আসতে চাননা এমনকি নাম প্রকাশ না করার জন্যও অনুরোধ করেন তারা।

দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের মুন্সির বাজার এরাকার একজন বলেন, ভাই আমার নাম ও ছবি কিন্তু প্রকাশ কইরেননা, ভোট কার দেব সেটাও বলবোনা। আমরা গরীব মানুষ খেটে খাই, কেউ আমাদের খাবার দিবেন না, তবে যেই চেয়ারম্যান হোকনা কেন, কেউ তার পকেট থেকে কিছু দিয়ে দেশের উন্নয়ন করবেননা, সবাই ওই শেখ হাসিনার সরকারেরটা দিয়েই উন্নয়ন করে। যাই হোক আমরা এবার একজন শিক্ষিত চেয়ারম্যান চাই, আমরা এবার পরিবর্তন চাই।
দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের সোহরাব মাতব্বরের পাড়ার একজন বলেন- আমাদের এলাকার সব ভোট নৌকায় পরবি, তবে অনেকেই বলাবলি করছে অনারস আর নৌকা ফিফটি ফিফটি হবে।

দৌলতদিয়া ইউনিয়ননের ৭-নং ওয়ার্ডের চর দৌলতদিয়া গ্রামের হাসান মোল্লার পাড়া এলাকার নাম প্রকাশে অনেচ্ছুক একজন বলেন-  কি আর বলবো ভাই, আমাদের মতো লোকের চাওয়া নাচাওয়া নিয়ে এমন কি যায়আসে। কারন, বর্তমানে দেখা যায় সন্ত্রাসী, অশিক্ষিত, অযোগ্য লোকেরই দাপট বেশী। আমাদের মতো সাধারন মানুষ যাকে ভালবাসে, আর সেই ভালবাসার মানুষটিই যখন একজন অশিক্ষিত, অসৎ, মদসেবনকারী, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীর মত প্রার্থীর পক্ষপাতিত্ব করেন সেখানে আমাদের মতো সাধারন মানুষের চাওয়া না চাওয়ায় কি আসেযায়। সবচেয়ে বড় দ্বায় ঠেকছি হলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে, জননেত্রী শেখ হাসিনার নতেৃত্ব মানি বলেই এসব খারাপ মানুষকে সহ্য করতে হয়। তিনি আরো বলেন, একটা বিষয় আমি বুঝতে পারছিনা, যার খারাপ কর্মকান্ড পত্রপত্রিকায় প্রকাশ হলো, টিভিতে দেখালো, এতো কিছু হওয়ার পরওে দল তাকেই মনোনয়ন দিল ! যাইহোক আমি বঙ্গবন্ধুকে ভালবাসি, জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ভালবাসি, সে কারনে প্রার্থী খারাপ না-কি ভাল সেটা দেখার দরকার পরেনা। আমি নৌকা মার্কায়-ই ভোট দেব।

নির্বাচন প্রসঙ্গে, দৌলতদিয়া ৭ নং ওয়ার্ডের হাসান মোল্লার পাড়ার একজন ভোটারের সাথে কথা হলে তিনি ছবি তোলা ও নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন- কোন মার্কায় ভোট দেব সেটা বলবনা। তবে, আমরা চাই একজন শিক্ষিত, সৎ, মেধাবী মানুষকে। যে কিনা প্রকৃতই সমাজসেবক, এমন মানুষটিকেই ভোট দিতে চাই। তিনি আরো বলেন, ইউপি নির্বাচন আর জাতীয় নির্বাচন কিন্তু এক নয়, সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রার্থী খারাপ না-কি ভাল সেটা দেখার টাইম নাই, আমরা নৌকা মার্কায়-ই ভোট দেই।

Comments

comments