আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে বিদেশ যেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি-প্রধানমন্ত্রী


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ১০:০১ অপরাহ্ণ ,২৫ আগস্ট, ২০১৯ | আপডেট: ২:০৫ অপরাহ্ণ ,২৬ আগস্ট, ২০১৯
বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে বিদেশ যেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি-প্রধানমন্ত্রী

জনতার মেইল।। বিদেশে লোক পাঠানোর ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন-  প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে মানুষ বিদেশ যেতে পারে। আর তারা কোথায় কী কাজ করতে যাচ্ছেন তার একটা খবর নেয়া, যেন সঠিক কাজটা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যেখানে যে কাজে যাবে সেভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, সে দেশের আইন-কানুন সম্পর্কে জানানো, এসব বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।

মানুষ যাতে দালালদের ধোঁকাবাজিতে না পড়ে সেদিকে সতর্ক করে তিনি মন্তব্য করে বলেছেন যে,- আমি একটা জিনিস দেখি, কিছু কিছু দালাল শ্রেণির লোক থাকে, যারা গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে মানুষকে বড় বড় স্বপ্ন দেখায়। সোনার হরিণের স্বপ্ন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে বাইরে (বিদেশ) পাঠায়। তারা শুধু বাইরেই পাঠিয়ে দিচ্ছে। এরপর কে কোথায় গেছে, সেই খবর কেউ জানে না।

২৫শে আগষ্ট-১৯ রোববার  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অভিবাসন বিষয়ক জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির প্রথম সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন- মানুষ জমিজমা বিক্রি করে, সবকিছু বন্ধক রেখে দালালকে টাকা দিয়ে বাইরে যায়। কিন্তু যাওয়ার পর সেখানে তাদের কোনো খবর থাকে না। অনেক সময় তাদের কোনো কাজের ঠিকানাও থাকে না। তখন আবার তাদের আত্মীয়-স্বজনকে চাপ দেয় এবং তাদের কাছ থেকে আবারও টাকা নেয়। এ ধরনের অনিয়ম সারা বাংলাদেশে আছে।

মানুষ যাতে ওদের মুখরোচক কথার ধোঁকাবাজিতে না পড়ে সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতারণা বন্ধে আমাদের নজরদারি বাড়াতে হবে এবং একইসঙ্গে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। কেননা তারা আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করে তুলতে রেমিট্যান্স পাঠানোর মাধ্যমে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন। তারা যেন অকালে হারিয়ে না যায় সেজন্য তাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের দিকে নজর দেওয়া আমাদের দায়িত্ব, যেহেতু তারা আমাদের দেশেরই নাগরিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমানে প্রায় এক কোটি বাংলাদেশি বিশ্বের প্রায় একশ’টি দেশে অবস্থান করে দেশে রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছে। যা আমাদের দারিদ্র বিমোচন এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।’

যারা কাজের জন্য বিদেশ যাচ্ছে তাদের জীবন বৃত্তান্ত সহযোগে একটি ডাটাবেজ প্রস্তুত করার জন্যও সংশ্লিষ্ট কতৃর্পক্ষকে নির্দেশ প্রদান করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে তারা কোন কাজের জন্য কোন দেশে যাচ্ছে তার বিবরণ থাকতে হবে।’ বিদেশে গমনেচ্ছুরা যে কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছে তার প্রশিক্ষণ এবং সে দেশের ভাষার ওপর দখল থাকার বিষয়ে গুরত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে আমরা যৌথভাবেই প্রশিক্ষণের আয়োজন করতে পারি, যেমনটি অতীতেও করা হয়েছে।’

এছাড়াও শিগগিরই প্রবাসী নারী শ্রমিকদের জন্য হেল্প ডেস্ক করা হবে। প্রবাসীরা যাতে সহজে দেশে অর্থ পাঠাতে পারে সেজন্য সবাইকে সহযোগিতার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। বিদেশে দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর পাশাপাশি কেউ যাতে দালালের খপ্পরে না পড়ে তা নিশ্চিত করতে হবে বলেও জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আমরা সরকার গঠনের পর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা সৃষ্টি করার কাজ করে আসছি। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক করে দিয়েছি, যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে প্রয়োজনে বিনা জামানতে ঋণ নিয়ে মানুষ বিদেশ যেতে পারে। আর তারা কোথায় কী কাজ করতে যাচ্ছেন তার একটা খবর নেয়া, যেন সঠিক কাজটা পায় সেদিকে লক্ষ্য রাখা, যেখানে যে কাজে যাবে সেভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া, সে দেশের আইন-কানুন সম্পর্কে জানানো, এসব বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি।

Comments

comments