আজ : শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজাকার কতৃক কুমার বাহাদুরের বাড়ি লুন্ঠন-বিহারী কতৃক হত্যা


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ১:৫৮ পূর্বাহ্ণ ,২৬ মার্চ, ২০১৮ | আপডেট: ৩:১৯ অপরাহ্ণ ,২৯ মার্চ, ২০১৮
রাজাকার কতৃক কুমার বাহাদুরের বাড়ি লুন্ঠন-বিহারী কতৃক হত্যা

বিশেষ প্রতিনিধি ।। ওরা প্রথমে গুলি করে দু’জনকে হত্যা করার পর রাজা কুমার বাহাদুরের বাড়িতে চালায় লুটতরাজ । আতকে ওঠে এলাকাবাসী, দিক-বিদিক ছুটোছুটি করতে থাকে লোকজন । ১৯৭১ সালের ২৬শে এপ্রিল পাকিস্থানী মেলেটারীরা ঢাকার দিক থেকে গোয়ালন্দ ঘাট পাড় হয়ে রাজবাড়ী জেলা শহরে প্রবেশ করে । আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে স্থানীয় বিহারীরা । ৭১সালের ৩০শে এপ্রিল সকালের দিকে বিহারীরা মিটিংয়ের কথা বলে রাজা কুমার বাহাদুরকে রাজবাড়ী লোকসেড এলাকার পেস কমিটির অফিসে ডেকে নিয়ে সেখানে তাকে আটক রাখে ।
রাজা কুমার বাহাদুর হচ্ছে রাজা সূর্য্য কুমারের পালিত পূত্র । আরেকদিকে, কর্তা আপনাকে এখনই তলব করেছে, দু’জন বিহারী এমন মিথ্যে কথা বলে রাজা কুমার বাহাদুরের প্রতিবেশি জগোবন্ধু দত্তকে তার বাড়ি থেকে রাজার বাড়িতে ডেকে নিয়ে আসে, এরপর রাজার বাড়ির ভূমি অফিসের ছাদে নিয়ে গিয়ে প্রথমে গুলি করে ও পরে ছাদ থেকে লাথি মেরে মাটিতে ফেলে দেয় । মাটিতে পড়ে ছটপট করে মারা যায় জগোবন্ধু দত্ত । অন্যদিকে রাজার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অবস্থানরত রাজার ছেলে হারুন পাগলাকে গুলি করে হত্যা করে পরে লাথি মেরে তাকেও মাটিতে ফেলে দেয় বিহারীরা । এই জগোবন্ধু দত্ত ও হারুন কে হত্যার পর এলাকায় তখন ভিতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, এ সময় এলাকার মানুষ দিক বিদিক ছুটা-ছুটি করতে থাকে । এরপরেই শুরু হয় রাজার বাড়িতে লুটতরাজ । এ ঘটনায় সেদিন, বিহারীদের মধ্যে সৈয়দ খামার, এস্তে খাঁ, ইস্তাক খাঁ, এজাহার খাঁ সহ নাম অজানা আরো ৫/৬ জন বিহারীদের নেতৃত্বে সেদিন দুপর বেলার দিকে রাজার বাড়িতে লুট করে মৃত মেলাই মন্ডলের ছেলে মৃত এলেম মন্ডল, মৃত সেরো মন্ডল, মৃত ইব্রাহীম মন্ডল ও নাইজদ্দিন মন্ডল সহ আরো ৫/৭ জন ঘাতক দালালরা ।
রাজার বাড়ির কোশাগারের টাকা-পয়সা, সোনা-রুপার অলংকার, লোহার সিন্ধুক, কাঠের সিন্ধুক, বাড়িতে ব্যাবহারিক কাঁসা ও পিতলের থালা-বাসন, হাড়ি-পাতিল, টিন, কাঠ, ঢাল, তলোয়ার, খরগ, খাদ্যদ্রব্য সহ গোলায় থাকা বিভিন্ন ফসলাদি লুট করে গরুর গাড়ি ও মহিষের গাড়িতে করে এবং মাথায় করে লুটেরাদের বাড়িতে নিয়ে যায় । দুপুর হতে বিকাল পর্যন্ত একটানা লুটপাট চলতে থাকে । এই লুটপাটেরে এক ফাঁকে বিকেলের দিকে রানী মা (রাজা কুমার বাহাদুরের স্ত্রী) পুরাতন একটা কাপর পড়ে সবার নজর এড়িয়ে বাড়ির পিছনের দরজা দিয়ে বেড় হয়ে সেদিন লক্ষ্মীকোল গ্রামের শরকত (সাবেক দাদশী ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নেয় ।
পরে সেখানে কান্না-কাটির মধ্যো দিয়ে রাত্রী যাপন করে, পরের দিন এলাকার মানুষের সহযোগীতায় পদ্মানদী পার হয়ে পাবনা জেলার দিকে চলে যায় । (দেশ স্বাধিনের ২/৩ মাস পরে রানী তার মেয়ে-জামাইয়ের রাজবাড়ী বেবীর বাসায় ফিরে আসে)। সে দিন সন্ধ্যার আগে লোকসেড বিহারী কলোনি থেকে রাজা কুমার বাহাদুর ফিরে এসে দেখে তার ছেলে হারুন পাগলার ও প্রতিবেশী জগোবন্ধু দত্তর হত্যা করা লাশ । সেই সাথে আরো দেখতে পায় তার বাড়িতে সব কিছু লুট হয়ে গেছে আবার রানীও বাড়িতে নাই ।
রাজার বাড়িতে লুটের পরের দিন শুরু হয় ওই এলাকায় গন ডাকাতি । লক্ষ্মীকোল গ্রামের জগবন্ধু দত্ত, পূর্ন্যা দত্ত, মাখন দত্ত, পরি দত্ত, পাঁচু বাবু, পদা ভূমি, হইর‌্যা, ধীরেন, কানু গোসাই, সুরেন দত্ত, দিনে সরকার, গৌঢ় দাস, রাধা দাস, নইব্যা কাড়াল, মন শাঁ, পিয়া শাঁ, মটরা শাঁ, দূর্গে মাষ্টার সহ আরো অনেকের বাড়িতে লুটতরাজ করে বিহারীরা ও তাদের দালালরা । পালপাড়ার মজুমদারের বাড়িতে লুট করার পর বিহারীরা আগুন ধরিয়ে দেয় বিহারীরা । রাজার বাড়ি লুটের প্রায় ৬/৭ মাস পরে বিহারী এস্তে খাঁর বাড়ির ৩/৪টি রুমের মধ্যে কাঁচি দ্বারা কাটা টুকরা টুকরা করা অন্তত ৪/৫ বস্তা টাকা পাওয়া গেছিল ততকালিন সময়ে ।
বর্তমান যে খানে এতিম খানা, সেখানে ছিল বিহারী এস্তে খাঁর বসত বাড়ি । এ ঘটনা, লক্ষ্মীকোলের এনায়েত বিশ্বাস, মোঃ মুন্তাজ, মোঃ নায়েব আলী, সাইদুর রহমান ওরফে তোতা বাবু, মোঃ মোকছেদ, বৈলতার ওলি ঠাকুর সহ আরো ৮/১০ জন লোক থেকে সংগৃহিত । এনায়েত বিশ্বাস ও নায়েব আলী বলেন, তখন আমরা রাজার বাড়ির পূর্বপাশে বাবলার বাড়ির(বর্তমানে সোরাপের দোকান)কাছে সেকেন মোল্লা, আবুল সরদার, আক্কাছ সহ ৭/৮ জন মিলে খেল ছিলাম, প্রথমে গুলির শব্দ পাই, তারপর চারদিকে তাকি-তুকি করে জগোবন্ধু দত্ত ও রাজার ছেলে হারুন পাগলার লাশ ছাঁদ থেকে মাটিতে পরতে দেখে আমরা ঝাইড়া দৌড় ।
পড়ে শুনলাম রাজার বাড়িতে লুটপাট হচ্ছে । লক্ষ্মীকোলের রাখাল চন্দ্র মনিদাস বলেন, সত্যেন চৌধুরীর বাড়ি ছিল ভবদিয়া গ্রামে,(বর্তমানে সালাম চেয়াম্যানের বাড়ি)। আমি তখন ওই বাড়িতে ৩/৪বছর ধরে রাখাল ছিলাম । বাড়িতে ৭/৮টা গরু ছিল, সেই গরুগুলো মজুমদারের পুকুর থেকে গোসল করায়ে মাঠে বেঁধে দিয়ে আবার কর্তার বাড়িতে আসি । সেদিন দুপুর সারে ১২.টার দিকে আম গাছে উঠি আম পাড়ার জন্য, এমন সময় ১০/১২ জনের একদল বিহারী, তাদের হাতে বন্দুক ও ছোড়া নিয়ে ওই বাড়িতে প্রবেশ করে, বাড়িতে রান্না ঘড়সহ ৫টি ঘড় ছিল, বিভিন্ন ঘড়ে লোক জন খুঁজাখুঁজি করতে থাকে, সত্যেনদার ঘড়ের দরজা আটকানো ছিল, সেই ঘড়ে সত্যেনদার স্ত্রী মাথার চুল আছড়াচ্ছিল, দক্ষিন পাশের জানালা দিয়ে বিহারীরা দেখে ফেলে এবং তারা জানালা দিয়ে বন্দুক তাক করে টাকা-পয়সা ও গহনা চায়, বৌদি ভয়ে সব দিয়ে দেয়, দেওয়ার পরেও জানালা দিয়ে একটি গুলি করে তারা চলে যায় । আমি গাছ থেকে সব দেখার পরেও ভয়ে চুপ করে ছিলাম ।
বিহারীরা চলে যাওয়ার পর গাছ থেকে দ্রুত নেমে এসে দেখি, বৌদির ডান পায়ের থোরায় গুলি লেগে এপার-ওপার বেড়িয়ে ফুটো গেছে, দৌরে তখনকার গ্রাম্য ডাক্তার জমিরকে ডেকে নিয়ে আসি, জমির ডাক্তার এসে ২ খানা কাঠের তক্তা দ্বারা ক্ষত স্থানে ব্যান্ডেজ করে ও ১টা স্যালাইন পুশ করে দেয় । আশ-পাশ থেকে এসময় কুটি, আয়নাল ফকীর, জবাইন্যা সহ অনেকেই ছুটে আসে । এ ঘটনার পরে ১৪/১৫ দিন ধরে বিহারীরা আসত ও এলাকায় ঘোরা-ফেরা করত । বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার প্রায় ৩ মাস পূর্বে এ গুলির ঘটনা ঘটে । দেশ স্বাধীন হওয়ার ২/৩ মাস পর তারা ভারত চলে যায় ।
তিনি চোখে দেখা আরো ঘটনা বলেন, পালপাড়ার মজুমদারের বাড়িতে লুট করে আগুন দেওয়ার বেশ কয়েকদিন পর, একদিন বিকেল ৩.টার দিকে হলদার পাড়ার ভক্ত হলদার, দিজ্বেন হলদার, খগেন হলদার, নগেন হলদারসহ অন্তত ৮/৯টি বাড়িতে বিহারীরা আগুন দিয়ে গ্রাম পুড়িয়ে দেয় । এই আগুন দিয়ে পোড়ানোর ১৪/১৫ দিন পর একদিন পালপাড়া থেকে ৮/৯ জন পালকে তাদের বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে ভবদিয়া বাগদিপাড়া মাঠের মধ্যে গুলি করে মেরে সেখানে তাদের মাটি চাঁপা দেয় । এর কয়েকদিন পর বৃষ্টির মধ্যে তাদের হাত-পা দেখা গিয়েছিল । লক্ষ্মীকেল গ্রামের মৃত ইয়াদুর রহমানের ছেলে সাইদুর রহমান ওরফে তোতা বাবু বলেন, ৭১সালের ১লা মে বিকেল ৪.টার দিকে আমার পিতা ইয়াদুর রহমান, নুরপুর গ্রামের শেখ গোলাম মওলার ভাই শেখ জালাল উদ্দিন, মোঃ আরমান ও লোকসেড কর্মচারী হককে বিহারীরা ধরে নিয়ে যায, পরে হককে ছেড়ে দিয়ে বাকি ৩ জনকে লোকসেডের বিহারী কলোনীতে নিয়ে গুম করে ফেলে । আজ পর্যন্তও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নাই ।
লক্ষ্মীকোলের এনায়েত বিশ্বাস বলেন, দিন তারিখ মনে নেই, একদিন তামেছ সরদারের ছেলে কুটি সরদারকে ও তার বাড়ির কামলা কাঙ্গাইল্যাকে বাড়ি থেকে ধরে এনে বিহারীরা, রাজার বাড়ির উত্তর-পূর্বপাশে বছির বকসর বাড়ির নিকট কুটি সরদারকে জবাই করে হত্যা করে খাদের মধ্যে ফেলে দেয় । একই সময় কুটি সরদারের বাড়ির কামলা কাঙ্গাইল্যাকেও গুলি করে হত্যা করে পাচু বাবুর বাড়ির বাশ ঝাড়ের মধ্যে ফেলে রাখে । ধীরেন ভূইমালি ও তার ভাই হইর‌্যাকে লক্ষ্মীকোল গ্রামের বাড়ি থেকে ধরে বিহারীরা পালপাড়া মজুমদারের বাড়িতে নিয়ে যায়, সেখানে তাদের দুই ভাইকে দিয়ে মজুমদারের বাড়ির নারকেল গাছ থেকে নারকেল পাড়িয়ে সবাই খায় ।
এসময় তাদের হাতে দু’টুকরো নারকেল খেতে দিয়ে বলে বাড়ি চলে যা, সেখান থেকে ধীরেন ও হইরা দুই ভাই হেটে সামনের দিকে অগ্রসর হতেই তাদের পিছন থেকে গুলি করে হত্যা করে, এক গুলিতেই দুই ভাই হত্যা হয় । এর কিছুদিন পর পাল পাড়ায় একই দিন সময়ে ধেইরা পাল ও নগেন পাল সহ ৭/৮ জনকে বিহারীরা গুলি করে ও জবাই করে হত্যা করে । রাজারবাড়ি লুটের ২/৩ দিন পূর্বে আগুন লাগিয়ে নুরপুর কটার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিল ।
এনায়েত বিশ্বাস আরো বলেন, মেলেটারীরা আসার পর বিহারীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে, রাজবাড়ী বাজারের শওকত চেয়ারম্যানের দাদা নিকবার মোল্লার চাল-আটার ডিলারের দোকান, পূর্নদত্তর দোকান, নগেন পালের দোকান, ছরি শাহার দোকান, ঘন শাঁ দত্তর তেলের দোকান সহ আরো বিভিন্ন দোকানে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে ফেলে বিহারীরা । তিনি বলেন আরো বলেন শুনেছি, যুদ্ধের সময় রাজবাড়ী রেল স্টেশনের কাছে রাজবাড়ী বডিংয়ে বিহারীরা থাকত, রাতের ট্রেনে আসা যাত্রী সাধারনের টাকা-পয়সা কেড়ে নিত এবং মহিলা যাত্রীদের রাজবাড়ী বডিংয়ে নিয়ে ধর্ষন করত । ভয়ে কেউ কিছু বলার সাহস পেত না । এ ধরনের হত্যা ও লুটপাটের পর, প্রথমদিকে পাংশার মতিন ও মতিনের চাচার নেতৃত্বে ৫০/৬০ জন লোকের একটি বাহিনী নিয়ে লক্ষ্মীকোল গ্রামের শরকত চেয়ারম্যানের বাড়িতে স্থান নেয় । শওকত ভাই ততকালিন দাদশী ইউপি চেয়ারম্যান ।
মতিন ওই এলাকার মাতবর/মান্যগন্য ব্যাক্তিদের মধ্যে গেদু বিশ্বাস, গনি মেম্বর, তারো সরদার, ধোনাই সরদার, গোলাই মেম্বর, গেদা মন্ডল সহ আরো অনেককে ডেকে এনে একটি মিটিং করে, সেই মিটিংয়ে উপস্থিত সকলকে মতিন বলে, দেশে যুদ্ধ লেগেছে, পাকিস্থানী মেলেটারীরা রাজবাড়ীতে ঢুকেছে, বিহারীদের সাথে যোগ দিয়েছে । বিহারীরা দেশের বাঙ্গালীদের বাড়িতে লুটতরাজ করে চলেছে, নারী ধর্ষন ও হত্যা শুরু করে দিয়েছে, বাঙ্গালীদের উচ্ছেদের পায়তারা করছে । ওদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে হবে । পাকিস্তানী বিহারীদের এদেশ থেকে বিতারিত করতে হবে । বিহারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য আপনারা এই এলাকার সাহসী যুবকদের ডেকে দিন, একটি দল গঠন করে তাদের ট্রেনিং করাবো যুদ্ধের জন্য ।
আর যদি যুদ্ধের জন্য লোকজন দিবার নাও পারেন, তাহলে শুধু আমাদের কোন রকমে খাদ্য-পানি ও থাকার জন্য একটু স্থান দেন এবং আমাদের রাস্তা-ঘাট চিনিয়ে দেন । এ কথা বলে সেদিনের মতো মিটিং শেষ করেন । তার ২/৩ দিন পরেই মতিন গ্রুপের সাথে ২৫/৩০ জন লোক নিয়ে যোগ দেন লালী নামের আরেক কমান্ডার । মতিন ও লালী গ্রুপ এই এলাকায় বেশ কিছুদিন অবস্থান করে যুদ্ধ করায় ৫০শোর্ধ বয়সের লোক সকলেই তাদের চেনে ও জানে । যুদ্ধের অনেক ঘটনার মধ্যে শেষ যুদ্ধের সংক্ষিপ্ত বর্ননা, মতিন গ্রুপ ২৫/৩০ জন মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে বর্তমান মোশারফের ভাটার রাস্তা দিয়ে বিহারী কলোনীতে এ্যাটাক করে ।
মতিনের চাচা ও লক্ষ্মীকোলের মুক্তিযোদ্ধা হিলাল ৩৫/৪০ জনের একটি গ্রুপ নিয়ে নুরপুর রাস্তা দিয়ে বিহারী কলোনী এ্যাটাক করে । লালী গ্রুপ রামচন্দ্রপুর দিয়ে রঘুনাথপুরের দিক থেকে বিহারী কলোনীতে এ্যাটাক করে । (আরেক দিকে কমান্ডার ইলিয়াছ বাহিনী ছিল সেটার বর্ননা জানা নাই)। দুই রাত দুই দিন গুলি-পাল্টা গুলি বিনিময় হয়, শত্রুদের গোলা-বারুদ ফুড়িয়ে যাওয়ার পর মুক্তিযোদ্ধারা ৩ দিক থেকে বিহারী কলোনীর উপর ঝাপিয়ে পরে । তাৎখনিক রাগের মূহুর্তে ওই কলোনীর মধ্যেই অন্তত ৯০ ভাগ পুরুষদের হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধার । যারা জীবিত ছিল তাদের মধ্যে কিছু পুরুষ ও নারী মিলে প্রায় ৩ শতাধিক বিহারীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে শরকত চেয়াম্যানের বাড়িতে এনে সেখানে সারাদিন রাখা হয় । তাদের সাথে শিশুরাও ছিল ।
দিন শেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর বেড়ি বাধের ওপাড়ে পদ্মা নদীর তীরে নিয়ে তাদের কিছু সংখ্যক জবো করে ও বেশীর ভাগ গুলি করে হত্যা করে মুক্তিযোদ্ধার । এরপর বাঙ্কার কেটে নিহত বিহারীদের মটি চাপা দেওয়া হয় । বিহারীদের মেরে যে খানে মাটি চাপা দেওয়া হয়েছিল, সে জায়গা হচ্ছে, ঝড়ু কারীর বাড়ির সামনে বাধের বাইরে নদীর তীরে, মাদু সরদার, মাদাইরে, হোসেন খাঁ, ইমান, নাইজরা কাজী, সকরা ফকীর, আজিবর, গেদা ফকীর ও হোসেন ফকীরের বাড়ীর পেছনে নদীর তীরে বিহারীদের লাশ মাটি চাঁপা দেওয়া হয় ।
এই এলাকার মুরুব্বি মানুষদের কাছে মনে হয় সেদিনের ঘটনা । ততকালীন যাহারা খুজিলদার বা রাজাকার ছিলেনঃ- রাজাকার বাবুর বড় ভাই হেদা, মসলেম গাড়োয়ানের শ্বশুর আবুল ও তার ভাই হেদা, পাঞ্জু সরদারের ছেলে মৃত ইন্তাজ সরদার, লক্ষ্মীকোল গ্রামের মৃত নেওয়াজ মোল্লা, মৃত বাউল ফকীরের ছেলে মৃত নিজাম ফকীর ওরফে নিজাম ডাকাত, মৃত মেলাই মন্ডলের ছেলে, মৃত এলেম মন্ডল, মৃত সেরো মন্ডল, মৃত ইব্রাহীম মন্ডল, নাইজদ্দি মন্ডল পিং অজ্ঞাত । এমন আরো আছে তাদের বিষয়ে তদন্ত চলছে ।
এ প্রতিবেদকের কিছু কথা, কারন বসত ধর্ষনের ঘটনা ও রাজারবাড়ি লুটের ঘটনার সাথে জড়িতদের মধ্যে কিছু লোককে বাদ দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে । শ্রদ্ধেয় পাঠকগন, ভুল ত্রুটি ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন । কাউকে হ্যায় করার জন্য নহে, ভবিষ্যত প্রজন্মকে জানোরে উদ্দেশ্যে এ ইতিহাস প্রকাশ করা হলো । তবে যতটুকু জেনেছি তুলে ধরার চেষ্টা করেছি, এমন আরো অনেক ঘটনা আছে, রয়েগেছে অজানা, খুঁজে পেলে পরবর্তিতে প্রকাশ করা হবে ।

Comments

comments