আজ : বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত রাজবাড়ীর পুলিশ;ফাঁস করলেন সিআইডি পুলিশ


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ২:২৪ পূর্বাহ্ণ ,৪ জুন, ২০১৮ | আপডেট: ১০:৫১ পূর্বাহ্ণ ,৪ জুন, ২০১৮
মাদক ব্যাবসার সাথে জড়িত রাজবাড়ীর পুলিশ;ফাঁস করলেন সিআইডি পুলিশ

বিশেষ প্রতিনিধি।। রাজবাড়ীর পুলিশ অফিসারদের মাদক ব্যাসার সাথে জড়িত থাকার ঘটনা ফেসবুকে লিখে ফাঁস করলেন সিআইডি পুলিশের কনেস্টবল ইলিয়াস কাঞ্চন হাসান।
জনগনকে সাথে নিয়ে দেশের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি, র‌্যাব প্রধান যেখানে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষনা করে মাঠে নেমেছেন, আর আজ সেখানে রাজবাড়ীতে মাদককে রক্ষা করতে মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন রাজবাড়ীর কিছু স্বার্থনেশী অসাধু পুলিশ অফিসারবৃন্দ।

রাজবাড়ীতে এই মাদক সহায়তাকারী পুলিশ অফিসাররা কারা? আর এদের খুঁটির জোড়ই বা কোথায়? সরকার এদের বিরুদ্ধে কোন কঠোর ব্যাবস্থা নেবে কি?জনমনে এখন এমনটাই প্রশ্ন।
রাজবাড়ী জেলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থা নেওয়ার কারনেই নাকি তাকে সিনিয়র কিছু অসাধু মাদক ব্যবসায়ীদের সহয়তাকারী পুলিশ অফিসারের নির্দেশে কক্সবাজার জেলায় বদলি করা হয়েছে, তার ফেসবুক আডিতে পোষ্ট দিয়ে জাতীর সামনে এমনাটাই প্রকাশ করেছেন- রাজবাড়ীর সিআইডি কনেস্টবল ইলিয়াস কাঞ্চন হাসান।

সিআইডি কনেস্টবল ইলিয়াস কাঞ্চন হাসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম তার নিজের ফেসবুক আডিতে যা লিখেছেন তা হুবহু তুলে ধরা হলো।
                                                          শুরু
ইলিয়াস কাঞ্চন হাসান is feeling upset with Anisur Rohaman and 2 others in Cox’s Bazar প্রিয় কক্সবাজার.
15 hrs ·
@-মাদকের বিরুদ্ধে যাওয়ায় জীবনটা এলোমেলো-@
*******মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করাটাই*******
***********কি ছিল আমার অপরাধ?************
সিআইডি কনেস্টবল ইলিয়াস কাঞ্চন হাসান লিখেছেন, দৃষ্টি রাখুন:-আমার মতো পুড়া কপাল আর যেন কারো না হয়। কারন আমরা গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নিন্মপদস্থ কর্মচারী। আমরা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে পারি না, আমাদের উপরে থাকা কিছু রক্ত পিচাসু, সমাজের কীট হাতে গুনা গুটি কয়েক অফিসারদের জন্য। তাদের পকেট মোটা করতে নিজেদের সার্থের কারনে আমাদের গলায় ছুড়ি ধরে জবাই করতেও বিন্দু পরিমানে মায়া হয় না।
তারই একটা জলন্ত প্রমান আমি নিজেই। কারন আমাদের কথা শোনার মতো যে কেহ নেই।
গরীবের সন্তান চাকরী চলে যাওয়ার ভয়ে মুখ খুলতে পারিনা। আবার চাকুরীর শুরু থেকেই শুনে আসছি পানি সব সময় নিজের দিকে গড়ে। কিন্তু কি করবো তবুও যে সমাজ, জাতি, দেশকে ভয়ংকর নেশা মাদকের হাত থেকে বাঁচাতে হবে মনে করেই ঝাঁপিয়ে পরলাম রাজবাড়ী জেলায়। নিজের মনের সাথে চ্যালেঞ্জ করে এবং কিছু আত্মীয় স্বজন, ভাই, বন্ধু, পরিজনদের সাথে আলোচনা করে আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভয়ংকর নেশা মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে।
কিন্তু সামান্য কিছু হাতে গুনা দু-এক জন অসাধু মাদক ব্যবসায়ী আর সাথে আমাদের পুলিশের ২/৩ জন পুলিশ অফিসার শলা-পরামর্শ, যোগসাজশে আমাকে রাজবাড়ী জেলা থেকে এতো ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যে দিয়ে সবশেষে পাঠিয়ে দিল কক্সবাজার জেলায়।
কি ছিল আমার অপরাধ? মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে ছিলাম এটাই কি ছিল মুল কারন না-কি অন্য কিছু? রাজবাড়ী জেলা থেকে পর পর চার বার আমাকে বদলী করা হয় কিন্তু কেন?
আমাকে রাজবাড়ী জেলা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রতিটা সময়, প্রতিটা মুহুর্ত আমাকে মিথ্যা বদনাম দিয়ে হয়রানি করানো হয়েছে কিন্তু কেন? যে কোন বিষয়ে বদনাম হলেই যখনই আমি প্রতিবাদমুখি হয়ে উঠি তখনই বিষয়টি চাপা পরে গেছে। কে শুনবে আমার মতো একজন অসহায় পুলিশ কনেষ্টবলের আর্তনাদ? জানি কেও শুনবে না কারন আমরা নিম্ন পদস্থ কর্মচারী।
তাই তো পারলাম না মনের স্বপ্ন টাকে পুরুন করতে। পারলাম না রাজবাড়ী জেলা থেকে মাদক মুক্ত করতে।
কিন্তু আজ যে আমি বড় অসহায়। পৃথীবিতে চোখে দেখার সবাই আছে কিন্তু বিপদে-আপদে আমার অসুস্থ স্ত্রী, স্কুল পড়ুয়া শিশু কন্যা সন্তান আর আমি, এই তিনটি ব্যক্তির যে দুনিয়াতে কষ্ট দুঃখ বোঝার মতো কেও নেই।
সাড়াটা জীবন শুনেছি সত্যের জয় হয়, ভাল কাজের ফল পাওয়া যায়। কিন্তু আমার বেলায় এটা কি হলো?
নাকি ফেসবুকে (আসুন আমরা সবাই সন্ত্রাস ও মাদকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াই) এই পেজটাই আমাকে আজ কক্সবাজার জেলায় মৃত্যুর মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে? তা-না হলে ঘড়ে অসুস্থ স্ত্রী,শিশু কন্যা সন্তানকে রেখে আমি আজ কতোদুরে, কক্সবাজার জেলা থেকে রাজবাড়ী যেতে কমপক্ষে দেড় থেকে দুই দিন সময় লাগে আবার যাতায়াত ভাড়া দুই থেকে তিন হাজার টাকা। এটাই কি তাহলে মাদক নির্মুলে ভাল কাজের ফল?

শতো কষ্ট প্ররিশ্রম করে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী, চিন্হিত সন্ত্রাসী গ্রেফতার করেছি তার বিনিময় আমি পেয়েছি মিথ্যা অপবাদ আর অবহেলা।

আর আমার কাজের ফল আমার রাজবাড়ীর ইনচার্জ (ইন্সপেক্টর) মহোদয় হেড অফিস থেকে পুরস্কার (ক্রেচ) নিয়ে আসে। সবই নিয়মনীতি তবুও কোন কষ্ট ছিলনা মনে কিন্তু কক্সবাজার জেলায় বদলী করার মতো কি অপরাধ ছিল আমার? ছোট পদে চাকুরী করি লাত্থি গুতা সহ্য করে চাকুরী টা করছিলাম কিন্তু জীবনে কি এমন পাপ করেছিলাম যে তারজন্য এমন অমানবিক বিচার করলো বিধাতা আমার উপর?

তবুও দোয়া করে যাই অসাধু সেই লোক গুলোর জন্য, যে মানুষ গুলো আমার মতো একজন সামান্য পুলিশ কনেষ্টবলকে রাজবাড়ী থেকে অন্যত্র সরিয়ে দিতে রাজবাড়ী জেলার সিনিয়র/জুনিয়র অফিসার গুলোর অস্থির করে রেখেছিল।

তবে সেই মানুষ গুলির উদ্দেশ্যে বলিঃ-সমাজ, জাতি, দেশ, আগামী ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নষ্ট করবেন না। বিধাতা কিন্তু আছে তিনিই সবকিছুর মালিক। তাহার চোখ ফাঁকি দিতে পারবেন না।
আমার লেখা পরে যদি কারো খারাপ লেগে থাকে পাঁয়ে ধরে অনুরোধ করছি আমাকে আর ক্ষতি করবেন না। আমি অনেক কষ্টে আছি, আমি অনেক বিপদে আছি, বর্তমানে জীবন্ত লাশের ন্যায় বেঁচে আছি। সবাই ভাল থাকবেন। ভুল ভ্রান্তি ও বেয়াদবি মাপ করবেন। আপনারা সবাই এই অসহায়, হতভাগার জন্য একটু সামান্য দোয়া করবেন,,,,খোদা হাফেজ।।

এই ষ্ট্যাটার্স/পোষ্ট দ্বারা এটাই প্রমানীত হয় যে, রাজবাড়ীর কিছু পুলিশ অফিসারবৃন্দ মাদকের সহযোগী ও ব্যাবসায়ীদের সহায়তাকারী।
জনমনে এখন একটাই প্রশ্নঃ- মাদকের বিরুদ্ধে যারা যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন- তারা রাজবাড়ীর এই মাদক ব্যাবসায়ীদের সহায়তাকারী অসাধু পুলিশ অফিসারদের বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেয় সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Comments

comments