আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

দেবগ্রাম ইউনিয়নের অর্ধশত দুস্থ নারীর ৮ মাসের ভিজিডি’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ (পর্ব-১)


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৪:২৫ অপরাহ্ণ ,১৬ মে, ২০২০ | আপডেট: ১:০৫ পূর্বাহ্ণ ,১৭ মে, ২০২০
দেবগ্রাম ইউনিয়নের অর্ধশত দুস্থ নারীর ৮ মাসের ভিজিডি’র চাল আত্মসাতের অভিযোগ (পর্ব-১)

মোঃ আলমাস আলী॥  রাজবাড়ী গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের প্রায় অর্ধশত দূস্থ নারীর ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দুস্থ মহিলা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ভিজিডি (ভালনারেবল গ্রুপ ডেভেলপমেন্ট) তালিকাভূক্ত কার্ডধারী প্রায় অর্ধশত দূস্থ নারী ৭/৮ মাস যাবত চাল পাচ্ছেন না। চাল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ নারীরা ইউএনওসহ বিভিন্ন দপ্তরে চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার প্রস্ততি নিচ্ছেন বলে তথ্যসূত্রে জানাযায়।

অভিযোগসূত্রে জানা গেছে, ভিজিডি কার্ডধারী প্রায় অর্ধশত দূস্থ নারীর ৭/৮ মাসের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলার মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের আওতায় ভিজিডি সুবিধাভোগীর সংখ্যা ৫০৫ জন। প্রতি দূস্থ পরিবারকে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। গত বছরের জানুয়ারী থেকে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত তারা এই সুবিধা পাবে ভিজিডি কার্ডধারীরা।

অনুসন্ধানকালে জানা গেছে, দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে জনাব হাফিজুল ইসলাম দায়ীত্ব গ্রহন করার পর পরই প্রায় অর্ধশত দুস্থ মহিলা সুবিধাভোগী ভিজিডি কার্ডধারী মাসে ৩০ কেজি হারে প্রায় ৮ মাস যাবত চাল পাচ্ছেন না।

দেবগ্রাম ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের  পূর্ব তেনাপচা গ্রামের আলম মোল্যার স্ত্রী লিপি বেগম (৩৯) বলেন- সরকার আমার নামে চাল দিচ্ছে কিন্ত চেয়ারম্যান আমাকে চাউলও দেয় না, কার্ডও দেয়না। আমার নামের চাল চাওয়া কি আমার অন্যায় অইছে। আমাগো চাল চেয়ারম্যান খাইছে। চেয়ারম্যান বলছে এই কার্ড আর দেওয়া যাবেনা, অন্য জনকে খাওয়ানো হবে।

সমিরুন বেগম (৩১) স্বামী সাত্তার খাঁ, ওয়ার্ড নং-৪, গ্রাম কাউজান (কার্ড নং-১২৬) বলেন- দুনিয়াতে কোন বিচার-আচার নাই, আমার মতো গরীব মানুষের চাইল খাইছে চেয়ারম্যান। একই ধরনের কথা বললেন আনোয়ারা বেগম (৪৮) স্বামী সিদ্দিক মন্ডল ওয়ার্ড নং-৮, গ্রাম তেনাপচা, আশ্রায়ন-২ (কার্ড নং-৪৫৬)। ঝর্ণা খাতুন (৩১) স্বামী রহিম শেখ ওয়ার্ড নং- ৯, সাং দক্ষিন চর পাচুরিয়া, (কার্ড নং-৪৬৫)। গোলাপী স্বামী আবু সাত্তার ওয়ার্ড নং- ০৫, সাং দেবগ্রাম,(কার্ড নং-(২২৩)। ময়না (৪১) স্বামী ফেলু শেখ ওয়ার্ড নং-৬, সাং তেনাপচা কার্ড নং-২৭১ সহ আরো অনেকেই।

এমন প্রায় অর্ধশত ভিজিডি কার্ডের চাল আত্মসাতের বিষয়ে হাফিজুল চেয়ারম্যানের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন-  পূর্বের চেয়ারম্যান আতর আলী কিছু অনিয়ম করেছিলেন, তিনি সেই গুলো খুজঁতে অনুসন্ধানে নেমেছেন। ইতিমধ্যে তিনি ৪৯ টি সুবিধাভোগীর কার্ডের চাল দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। এরমধ্যে ১০ জন সুবিধাভোগী ২০১৫-২০১৬ অর্থ বছরের ভিজিডি কার্ডের সুবিধাভোগী হিসেবে তালিকা ভূক্ত ছিলেন, তাদেরকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার চিঠি মোতাবেক বাতিল করা হয়েছে। বাকী ৩৯ জন সুবিধাভোগীর নাম ভিজিডির তালিকাভূক্ত না থাকায় তাদেরকে চাল দেওয়া বন্ধ রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিগত ৮ মাস যাবত অর্ধশত ভিজিডি কার্ডধারীদের চাল প্রতিমাসে উত্তলণ করা হচ্ছে তবে কাদেরকে ঐ চাল দেওয়া হচ্ছে তাদের নাম চেয়ারম্যানের নিকট নেই বলে তিনি জানান। ৮ মাসে যে তালিকা তৈরী করতে পারেন নাই সেই তালিকা তিনি দুই দিনের মধ্যে তৈরী করে এ প্রতিবেদককে জানাবেন বলে ২ দিন পর তার পরিষদে যেতে বলেন। ৪৯ জন দুস্থ নারীর ভিজিডি কার্ডের উত্তলণকৃত আটমাসের চাল কোথায় গেলো চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম তার সঠিক উত্তর দিতে পারেন নাই। তবে ক্ষিপ্ত কন্ঠে চেয়ারম্যান এ প্রতিনিধিকে বার বার জিজ্ঞাসা করেছেন, আপনার নিকট কে এই অভিযোগ করেছে ? চেয়ারম্যান বার বার তার সেক্রেটারী লিটনের হাত থেকে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসারের পাঠানো চিঠিটি নিয়ে দেখাযাচ্ছিলেন। চেয়ারম্যানের ভাবমূর্তি এমন বুঝাছিল যে অর্ধশত দুস্থ নারীর ভিজিডির ৮মাসের চাল তিনিই আত্মসাত করেছেন! তবে সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করলেই থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসবে মর্মে এলাকার সচেতন মহল জোড় দাবী করেন।

অপরদিকে, চেয়ারম্যান হাফিজুল ইসলাম নিজেকে বেশ বুদ্ধিমান হিসেবে জাহির করেছেন। অনিয়ম-দূর্নীতি থেকে নিজেকে আড়াল করতে সাদা কাগজে ও সাদা আবেদন ফরমে কিছু সাধারন পাবলিকের স্বাক্ষর নিয়ে রেখেছেন। সেই গুলোকে তিনি তার দূর্নীতির ডাল হিসেবে ব্যবহার করছেন বলে প্রমান পাওয়া যায়।

৪৯ জন দুস্থ নারীর ভিজিডি কার্ডের উত্তলণকৃত ৮ মাসের চাল যাদেরকে প্রদান করা হয়েছে মর্মে তাদের তালিকা ইউপি সেত্রেুটারী লিটনের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন- সত্য বলতে কি? তাদের তালিকা এখনো করা হয় নাই।

অর্ধশত ভিজিডি কার্ডের চাল কোথায় গেলো? এ বিষয়ে, ১০/৫/২০২০ তারিখ দুপুর দেড়টার দিকে অফিসে সাক্ষাৎকালে জানতে চাইলে ইউপি ভিজিডি মহিলা বাছাই কমিটি সদস্য সচিব ও মহিলা বিষয়ক অফিসার আব্দুস সালাম সিদ্দিক বলেন- ট্যাক অফিসার এবং চেয়ারম্যানই ভালো জানেন বলে তিনি জানায়।        ( চলবে… )

Comments

comments