আজ : শনিবার, ১৫ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ১লা আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বসন্তপুরের ভূয়া ডাক্তার আল মামুন ও তার সহকারী লক্ষ্মীকোলের পাপ্পু মিয়া আটক।। পরে কারাদন্ড


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ ,১৩ মে, ২০১৮ | আপডেট: ৬:২৭ অপরাহ্ণ ,১৩ মে, ২০১৮
বসন্তপুরের ভূয়া ডাক্তার আল মামুন ও তার সহকারী লক্ষ্মীকোলের পাপ্পু মিয়া আটক।। পরে কারাদন্ড

জনতার মেইল ডেস্ক ।। চিকিৎসার নামে বিভিন্ন মানুষের সাথে প্রতারনা করার অভিযোগে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন(৫৪)নামের এক ভূয়া ডাক্তার এবং তার সহকারী মোঃ পাপ্পু মিয়া(২৫) কে আটক করেছে র‌্যাব-০৮, সিপিসি-০২ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল । আকটকৃতদের দখলে থাকা বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয় ।
উক্ত ক্যাম্পের কোম্পানী অধিনায়ক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ রইছ উদ্দিনের নেতৃত্বে ১২ই মে-১৮ শনিবার সকাল ১১.টার সময় ফরিদপুর জেলার কোতয়ালী থানাধীন ধুলদী বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয় ।
আটককৃতদের পরিচয়, ভুয়া ডাক্তার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন হচ্ছে রাজবাড়ী জেলা সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের মৃত নিহাজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে । এবং উক্ত ভুয়া ডাক্তারের সহকারী মোঃ পাপ্পু মিয়া হলো রাজবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের লক্ষীকোল গ্রামের মোঃ ইদ্রিস মিয়া ময়নার ছেলে, সে লক্ষ্মীকোল ইমামবাড়ার খাদেম ও বয়ানকারী ।
উক্ত ভূয়া ডাক্তার মাত্র এইচএসসি পাশ করে চিকিৎসা শাস্ত্রে কোন প্রকার ডিগ্রীধারী না হয়েও প্রতারনা মূলকভাবে নিজেকে ডাক্তার হিসেবে(নিউট্রিশিয়ান কনসালটেন্ট) পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের জটিল-কঠিন রোগের চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে । তার নিকট চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করে অনেকেই প্রতারিত হয়েছেন । ভূক্তভোগি সেবা গ্রহিতাগণ প্রতারিত হয়ে র‌্যাব-৮ ফরিদপুর ক্যাম্পকে অবহিত করলে অদ্য ১২-০৫-১৮ইং তারিখ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উক্ত ভূয়া ডাক্তার এবং তার সহকারীকে আটক করে ।
এ সময় আকটকৃতদের দখল হতে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করা হয় ।
আটককৃতদেরকে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ফরিদপুর সদরের সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ পারভেজ মল্লিক- ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন আইন ২০০৯ এর ৫২ ধারা মোতাবেক ভূয়া ডাক্তার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন(৫৪)কে ৬ মাস এবং তার সহকারী মোঃ পাপ্পু মিয়া(২৫)কে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করেন । এ সময় ফরিদপুর সিভিল সার্জন অফিসের প্রতিনিধি ডাক্তার বিধান রায় উপস্থিত ছিলেন । জব্দকৃত বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় ।
ভ্রাম্যমান ভুয়া “ডাঃ আব্দুল আল-মামুন” ও সহকারী পাপ্পু মিয়া যাদের সাথে প্রতারনা করেছে তাদের সাক্ষাৎকার তুলে ধরা হলো ।
প্রতারনার শিকার হওয়া ভুক্তভোগী লোকগুলো কাদেরিয়া তরিকাপন্থি হওয়ায় সকলের মন সহজ সরল । যার কারনে ধূর্ত মামুন এদের ঠকিয়ে চলছে । প্রতারনার মাধ্যমে আয়কৃত টাকা-পয়সা দু’জনের মধ্যে অর্ধেক অর্ধেক ভাগাভাগি হয় বলে যানা যায় ।
১ । গোয়ালন্দ উপজেলার ছোট ভাকলা ইউনিয়নের কৃষ্ণতলা গ্রাম/এলাকার নুর ইসলাম মুঠোফনে জনতার মেইল.কম কে  বলেন-
আমি ‘হাপানী’ রোগের জন্য, ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নিকট দির্ঘ দেড় মাস যাবৎ চিকিৎসা সেবা গ্রহন করি । নগদ ৭ হাজার টাকা নিয়েছে, আরো বাকী আছে নিতে আসেন নাই । তার ঔষধ খেয়ে শাসকষ্ট আরো বেড়ে গিয়ে গোয়ালন্দ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলাম ছিলাম প্রায় ১০ দিন । বিষয়টি তাকে জানিয়েছিলাম কিন্তু, সে দেখা করতে আসেন নাই । গত ৪/৩/২০১৮ ইং তারিখে গোয়ালন্দ হাসপাতা থেকে রিলিজ পেয়ে বর্তমানে বাড়িতেই আছি । এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, লক্ষ্মীকোল ইমামবাড়ি পাপ্পু মিয়ার মাধ্যমে পরিচয় । আমি তার বাড়িতে/চেম্বারে কখনও যায়নি, যার কারনে তার ঠিকানা জানিনা, শুনেছি বসন্তপুরের ওই দিকে বাড়ি । এ বিষয়ে নুর ইসলামের স্ত্রী মমতা জানান, মামুন ডাক্তারের ঔষধ খেয়ে আমার স্বামীর অবস্থা খুবই খারাপ হয়েছিল, গোয়ালন্দ হাসপাতালে চিকিৎসা করে ৮/৯ হাজার টাকা খরচ হয়েছে ।
২ । রাজবাড়ী জেলা সদরের গোদার বাজার ঘাট এলাকার গোলাম মস্তফা জানান, লক্ষ্মীকোল ইমামবাড়ি পাপ্পু মিয়ার মাধ্যমে পরিচয় হয় । আমার নিজের বাত ব্যাথা, গ্যাষ্ট্রিক ও চর্মরোগের জন্য ডাক্তার আব্দুল্লাহ আল-মামুনের নিকট চিকিৎসা গ্রহন করেছি, তার জন্য ৩ হাজার টাকা নিয়েছে । সেই সাথে আমার ছেলে সাইফুল (২১) মানুষিক রুগী তার চিকিৎসা বাবদ ১ হাজার টাকা দিয়েছি । এতে, আমার ও ছেলের কোন উপকার হয়নাই । ৩/৪ মাস পূর্বে চিকিৎসা নিয়েছি, কোন উপকার হয়নি, এ বিষয়ে তাকে জানানোর পর থেকে এখন ফোন ধরেনা । তবে আমাদের মতো আর কেউ যাতে প্রতারিত না হয় সে কারনে প্রশাসনের যথাযোগ্য ব্যাবস্থা নেওয়া উচিৎ ।
৩ । ফরিদপুরের ধুলদি এলাকার আঃ ছালাম জানান, ৪ মাস পূর্বে আমি ২ মাস অসুস্থ ছিলাম, তখন ডাক্তার মামুনের নিকট থেকে আমার গ্যাসট্রিকের জন্য ৮/১০ দিন এবং তার সপ্তাহ খানেক পর আমআশার জন্য ১৪/১৫ দিন ঔষধ খেয়েছি । ঔষধ খাওয়ার পর অসুস্থ হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল হাসপাতালে ছিলাম ৩/৪ দিন ভর্তি ছিলাম । ২৮/১/২০১৮ইং তাং বাড়িতে আসছি । আরেকটি ঘটনা, প্রায় দেড় বছর পূর্বে, আমার চাচাত ভাই মোঃ আওয়াল সেখ তার মাথায় (ব্রেইনের) সমস্যা ছিল, মামুন ডাক্তারের নিকট থেকে চাচাত ভাইকে প্রায় ২ মাস চিকিৎসা করায়ে তাদের নিকট থেকে ৭/৮ সাত হাজার টাকা নিয়েছিল । তারও আমার মতো সমস্যা হয়য়ায় হাসপাতালে যেতে হয়েছিল । এমন আরো অনেক মানুষ ভুয়া ‘মামুন ডাক্তারের’ থেকে প্রতারিত হচ্ছে । এ কারনে, প্রশাসনের নিকট আমার আকুল আবেদন ভুয়া মামুন ডাক্তারকে গ্রেফতার করে শ্বাস্তি দেওয়া হোক, যাতে আর কেউ প্রতারিত না হয় ।
৪ । ফরিদপুরের ইশান গোপালপুর ইউনিয়নের চানপুর গ্রামের (রসুলপুর) শিবরামপুর এলাকার খোরশেদ মোল্লা (৬০) জানান, আমার মাজার ব্যাথার জন্য মামুন ডাক্তারের কাছে ২/৩ মাস চিকিৎসা নেই, এবং ৫ হাজার নেয় । ৪ প্রকারের ঔষধ (পাউডার)দিয়েছিল । অপরদিকে আমার ছেলে রাসেল মোল্লা (২৫)গ্যাসের জন্য প্রায় ২ মাস চিকিৎসা গ্রহন করে সেও ৫ হাজার টাকা দিয়েছে । তার চিকিৎসা আমাদের কোন কাজে লাগে নাই । তার ঔষধ খাওয়ার কারনে উল্টো বুকের শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধি হয়ে বুকে চাপের সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে । এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ৪ মাস পূর্বে চিকিৎসা নিয়েছি । তার কোন চেম্বার নাই, মটর সাইকেলে চলাফেরা করে ভ্রাম্যমান ভাবে চিকিৎসা করে । ৫/৬ বছর পূর্বে রাজবাড়ী পান্না চত্বরে চেম্বার ছিল, সেখান থেকে পাপ্পুর মাধ্যমে পরিচয় । এ বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে গ্রেফতার করে শাস্তি চাই । যাতে আর কেউ এই ভুয়া ডাক্তারে চক্রান্তে না পরে ।
৫ । ফরিদপুর নগরকান্দা কলেজের সামনে কলেজ বালিয়া গ্রামের বাড়ি ডাঃ বাচ্ছু সেখের স্ত্রী ছুপিয়া বেগব মুঠোফনে জানান, আমার ছেলে আবু তাহের সেখ(৩০)ব্যারিষ্টারি পড়তে গিয়ে তার মাথার সমস্যা হয়েছিল । মামুন ডাক্তার দ্বারা চিকিৎ করায়ে ১২ হাজার টাকা খরচ করেছি, ৩ মাসের ঔষধ দিয়েছিল, উল্টো আরো সমস্যা বেড়ে বেশী পাগল হয়ে গেছে । বিষয়টি মামুন ডাক্তারকে জানানোর পর সে আসে নাই, উল্টো তাকে ডাকলেও আর আসে নাই । বর্তমানে আবু তাহেরকে ঢাকা পিজি হাসপাতালে ভর্তি করে ৩৬ দিন চিকিৎসাধিন আছে । এ পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েগেছে । আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ছুপিয়া বেগব বলেন, আমার চেকুন গুনিয়ার হয়েছিল, মামুন ডাক্তারের থেকে চিকিৎসা নিয়ে আমি প্রায় মৃত্যু সয্যায় চলে গেছিলাম । পরে ঢাকা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন ভাল আছি । আমার ছেলেকে পাগল বানাইছে ওই মামুন ডাক্তার, আমি আল্লার কাছে এর বিচার চাই ।
৬ । রাজবাড়ী জেলা সদরের উড়াকান্দা ভবদিয়া গ্রামের খোরশেদ আলমের স্ত্রী রঞ্জনা বেগম জানান, আমার ব্রেইন ষ্টোক করেছিল ৩ মাস মামুন ডাক্তার দ্বারা চিকিস্যা হয়ে ২৫/৩০ হাজার টাকা খরচ করেছি কোন উপকার হয়নাই । পরে টাকা ফেরৎ চেয়ে পাওয়া যায়নি । এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, লক্ষ্মীকোল পাপ্পুর মাধ্যমে আমার স্বামীর সাথে পরিচয় হয়, আমার মনে হয় ওই পাপ্পু হচ্ছে মামুন ডাক্তারের দালাল ।
তিনি আরেক ঘটনা বলেন, আমাদের বাড়ির কাছে বিধবা ছলের গলা ব্যাথা হয়, চিকিৎসার জন্য তার থেকে ৪ হাজার টাকা নিয়েছে, তারও কোন উপকার হয়নাই । রাজবাড়ী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের নুরপুর গ্রামের জহর আলীর স্ত্রী রাশেদা বেগম চিকিৎসা হয়েছে তারও কোন উপকার হয়নি, তবে তার থেকে কত টাকা নিয়েছে জানিনা ।
৭ । শিবরামপুরের অহিদ মাষ্টার জনতার মেইল.কম কে মুঠোফনে বলেন, আমার ডায়াবেটিকসের জন্য মামুন ডাক্তারের নিকট প্রায় ৬ মাস যাবৎ চিকিৎসা হচ্ছি, গাছ-গাছারার ঔষধ দিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯/১০ হাজার টাকা দিয়েছি । মোটামুটি উপকার পাইছি । তবে, এ বিষয়ে আগেই লেখা-লেখি কইরেননা, কোন কিছু লাগলে আমাকে জানাইয়েন ।

এ বিষয়ে, কৌশল অবলম্বন করতে নাটকিয়ভাবে একটি মিথ্যে সাজানো ঘটনা দ্বারা যাচাই করনের জন্য গত ৭/৩/১৮ইং তারিখে ভ্রাম্যমান ও প্রতারক “ডাঃ আব্দুল আল-মামুনের সাথে মুঠোফনে জনতার মেইল.কম এর কথপো-কথোন উল্লেখ করা হলো, জনতার মেইলঃ ভাই একজনের কাছ থেকে আপনার নাম্বারটা নিয়ে কল করছি, আপনি কি ডাক্তার ? ডাক্তারঃ হ্যাঁ আমি ডাক্রতার । জনতার মেইলঃ আমার দাদার পিত্ত থলিতে পাথর হয়েছে, এর চিকিৎসা দিতে পারবেন কী ? ডাক্তারঃ আগামীকাল রাজবাড়ী লক্ষ্মীকোল পাপ্পু মিয়ার বাড়িতে ও ইমামবাড়িতে আসছি ওইখানে পাপ্পুর মাধ্যমে আমার সাথে দেখা করবেন ।।
কথা বলা শেষে বিষয়টি তাৎক্ষনিক ভাবে ফরিদপুর র‌্যাব-৮ কে লিখিত ও মৌখিক ভাবে অবগতি করেছিল জনতার মেইল.কম ।

Comments

comments