আজ : বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর- ১১ এপ্রিল


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৬:০৮ অপরাহ্ণ ,১১ এপ্রিল, ২০২০ | আপডেট: ৭:২৭ অপরাহ্ণ ,১২ এপ্রিল, ২০২০
বঙ্গবন্ধুর খুনি মাজেদের ফাঁসি কার্যকর- ১১ এপ্রিল

জনতার মেইল ডেস্ক।। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। ১১ এপ্রিল-২০২০ শনিবার রাত ১২.টা ১.মিনিটে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে কারা সূত্র।

এরআগে, শুক্রবার সন্ধ্যায় স্বজনদের সঙ্গে আব্দুল মাজেদকে শেষ সাক্ষাত করানো হয়। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে মাজেদের স্ত্রী সালেহা বেগম, শ্যালক ও চাচা শ্বশুরসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্য দেখা করেন। তাদেরকে কারা কর্তৃপক্ষ ডেকে আনেন।

ক্যাপ্টেন (বরখাস্ত) আবদুল মাজেদ দির্ঘ ২৩ বছর ধরে কলকাতায় আত্মগোপনে ছিলেন। করোনা পরিস্থিতে সম্প্রতি তিনি ঢাকায় আসেন। এরপর গত ৬ এপ্রিল-২০২০ সোমবার দিবাগত রাত ৩.টার পর রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হয়।

আদালত থেকে তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। মাজেদ শেষ সুযোগ হিসেবে নিজের দোষ স্বীকার করে কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণ ভিক্ষার আবেদন করেন। সেই আবেদন গত বুধবার রাতে খারিজ করে দেন রাষ্ট্রপতি।

মাজেদের ফাঁসি কার্যকর করা নিয়ে শনিবার কারাগারের চারপাশে বিকেল থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশের তিন স্তরের নিরাপত্তাবেষ্টনী চারদিক থেকে কারাগার ঘেরাও করে রাখে। ফাঁসি কার্যকরের খবর শুনে সাংবাদিকেরাও কারাফটকের দিকে যেতে শুরু করেন।

*ইতিপূর্বে ২০১০ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে সৈয়দ ফারুক রহমান, বজলুল হুদা, এ কে এম মহিউদ্দিন আহমেদ, সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মুহিউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ খুনি এখনো পালিয়ে আছেন। তাঁদের মধ্যে এস এইচ এম বি নূর চৌধুরী কানাডায় ও এ এম রাশেদ চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। অন্য তিনজন খন্দকার আবদুর রশিদ, শরিফুল হক ডালিম ও মোসলেম উদ্দিনের অবস্থান সম্পর্কে সরকারের কাছে নিশ্চিত কোনো তথ্য নেই। এ ছাড়া ফাঁসির দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত আরেক আসামি আজিজ পাশা ২০০২ সালে পলাতক অবস্থায় জিম্বাবুয়েতে মারা যান। 

**১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ধানমন্ডির ৩২ নং রোডের বাসভবনে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। আব্দুল মাজেদ অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে সরাসরি অংশ নেন। হত্যা শেষে তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অপর আসামি মেজর শাহরিয়ার এবং হত্যাকাণ্ডে অংগ্রহণকারী অন্যান্য সেনাসদস্যদের সাথে রেডিও স্টেশনে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি সামরিক অভ্যুত্থান করা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বঙ্গভবনে দেশত্যাগ করার আগ পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

৩৪ বছর পর ২০০৯ সালের ১৯ নভেম্বর বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু হয়। খুব ধীরে দীর্ঘ ১২ বছরে নিম্ন আদালত থেকে শুরু করে আইনের প্রতিটি ধাপ স্বচ্ছতার সঙ্গে অতিক্রম করে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে স্বঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যাকাণ্ডের পর ক্যাপ্টেন মাজেদকে পুরস্কৃত করেন তৎকালীন সেনাপ্রধান জিয়াউর রহমান। হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারীরা জিয়াউর রহমানের আদেশে বাংলাদেশ থেকে ব্যাংকক হয়ে লিবিয়ায় যান। সেখানে তিনি ৩ মাস থাকেন। জিয়া ক্যু করা অফিসারদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে বৈদেশিক বদলী করেন। তারই অংশ হিসেবে ক্যাপ্টেন মাজেদকে সেনেগাল দূতাবাসে বদলীর আদেশ দেন।

১৯৮০ সালে তাকে বিআইডব্লিউটিসিতে চাকরি দেন এবং উপসচিব পদে যোগদানের সুবিধার্থে সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। পরে আব্দুল মাজেদকে সচিব পদে পদোন্নতি প্রদান করা হয়। এরপর তিনি মিনিস্ট্রি অব ইয়ুথ ডেভলপমেনেট ডাইরেক্টর, ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট পদের জন্য আবেদন করেন এবং ওই পদে যোগদান করেন। সেখান থেকে তিনি ডাইরেক্টর এন্ড হেড অব ন্যাশনাল সেভিংস ডিপার্টমেন্টে বদলি হন।

১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচার শুরু করলে আটকের ভয়ে আত্মগোপন করেন আব্দুল মাজেদ। ২০০৯ সালে সর্বোচ্চ আদালতের মাধ্যমে সঘোষিত খুনিদের মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়।

Comments

comments