আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ী রেলওয়ে লোকোসেড ইর্নচাজ অন্তরালে জামাত নেতা খালেকের দুর্নীতি ফাঁস!


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৬:২৬ অপরাহ্ণ ,২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ | আপডেট: ১১:০২ অপরাহ্ণ ,২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮
রাজবাড়ী রেলওয়ে লোকোসেড ইর্নচাজ অন্তরালে জামাত নেতা খালেকের দুর্নীতি ফাঁস!

বিশেষ প্রতিনিধি।।রাজবাড়ী রেলওয়ের লোকোসেডের উর্দ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী ইর্নচাজ মোঃ আব্দুল খালেক মন্ডল দু’জন রেল কর্মচারীর পরক্ষ সহযোগীতায় সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার, কর্মস্থলে না থাকা ভুয়া বিল ভাউচার তৈরী করে সরকারের টাকা আতসাতৎ করা, ডিজেল মবিল তৈল কালো বাজারে বিক্রী সহ ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি স্বজন প্রীতির নানা অফিযোগ পাওয়া গেছে।শুধু কি তাই? তিনি একজন জামাত নেতা এমন তথ্যেরও প্রমান আছে।

তার এ বিষযে সরজেমিনে গেলে বিভিন্ন সূত্রে বেড়িয়ে আসে তার নানা অপকর্ম ও দূর্নীতীর কথা।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মচারীরা জানান, বাংলাদেশ জামায়েত ইসলামীর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার একজন সক্রিয় নেতা মোহাম্মোদ আব্দুল খালেক মন্ডল। সে রাজবাড়ী রেলওয়ের লোকো সেডের উর্দ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী (এস.এস.এ.ই) ইর্নচাজ হিসেবে গত ২১.০৮.২০১৫ইং তারিখে যোগদান করেন কিন্ত সে নিয়মিত কর্মস্থলে থাকেন না।সে তার কর্মস্থলে না থেকেই প্রায় সময়েই বাড়ীতে থেকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মচারীর সাথে কথা বলে দির্ঘ্দিন ধরে চাকুরী করে চলেছেন। লোক ইর্নচাজ মোঃ আব্দুল খালেক মন্ডলকে যে  ‍দু’জন ব্যক্তি সেল্টার দিয়ে থাকেন তারা নাকি রাজবাড়ী রেলওয়ে শ্রমিক লীগের নেতা।

রাজবাড়ী রেলওয়ের লোকোসেডের উর্দ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী ইর্নচাজ জামাত নেতা মোঃ আব্দুল খালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা নিন্মে প্রকাশঃ-

১৫দিন পর পর এক দিন কর্মস্থলে হাজির হয়ে একই সময় হাজিরা খাতায় ১৫ দিনের স্বাক্ষর করে থাকেন, এভাবেই তিনি দীর্ঘ দিন ধরে চাকুরী করে আসছেন।

ইঞ্জিনের কম্প্রেসারের মবিল ও ডিজেল তৈল কালো বাজারে বিক্রী করে নিজের তহবিল ভারী করে চলছেন দির্ঘ্যদিন ধরে।এসব টাকা না-কি আবার জামাত সংগঠনকে সুংগঠিত ও শক্তিশালী করতেও ব্যায় করে থাকে।

বিভিন্ন অজুহাতে ২১ শে ফেব্রয়ারীতে লোকোসেডের শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাও জানান না। আরো জানাযায় সে না-কি ২৬শে মার্চ, ১৬ই ডিসেম্বর, ১৫ই আগষ্টসহ সরকারী কোন দিবসই পালন করেন না।

তার এসব অনিয়ম, দুর্নীতি স্বজন-প্রীতি সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার করার সার্বিক সহযোগিতা করছেন রেল শ্রমিক লীগের নেতা এ অফিসের এসএলএম (সান্টার) সরেয়ার আলম সেলিম ও ফিটার মোঃ সামছুল হক।

তার বিরুদ্ধে আরো জানা যায়, কর্মচারীদের সঠিক কার্য বন্টন না করা, মাইলেজ প্রদানে কম বেশি করা, বাহিরে রানিং কর্মচারীদের ডিউটি দেখিয়ে অতিরিক্ত মাইলেজ প্রদান করা, জুনিরয়দের আন্ত নগর ট্রেনে কাজ করার জন্য মনোনিত করা, সিনিয়দের লোকাল ও সাটেল ট্রেনে কাজ করা, একই ব্যাচের অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকোমোটিভ মাষ্টার (এএলএম) একজনের মাইলেজ ৮০ থেকে ৯০ দিন এবং অন্য জনের  মাইলেজ ৫০ থেকে ৫৫দিন প্রদান করা। জুনিয়দের ৮০ থেকে ৯০ দিন সিনিয়দের ৫ থেকে ৫৫দিন মাইলেজ প্রদান করা। ফিটিং কর্মচারীদের ওভার টাইম কম বেশি প্রদান করা।

বিভাগীয় মঞ্জুরীতে ব্যাপক গড়মিল পাওয়া যায়-  যেমন, রাজবাড়ীতে একটি মাত্র আন্ত নগর ট্রেন কাজ করতে ২ সেট ক্রু সে খানে গ্রেড ১ এএলএম আছে ১৪ জন, ২ জন বাদ দিলে ১২জন কে দিয়ে শাটেল ও লোকালে ট্রেনে কাজ করায়। অথচ খুলনা পার্বতীপুর ঈশ্বরদী লোকোসেডে নবিন গ্রেড ২ এএলএম দিয়ে পাকশী বিভাগের গুরুত্বপূর্ন ট্রেন কাজ করানো হচ্ছে, যার ফলে ইঞ্জিন ফেল ওভার শুট এবং দুর্ঘটনা ঘটছে।তিনি নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন, এসবের বিরুদ্ধে কোন কর্মচারী প্রতিবাদ করলে তাকে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা বা অন্যথায় বদলী করা হয় ।

এসব অনিয়ম দুনীতির অফিযোগের বিষয়ে ফিটার সামছুল হক বলেন, আমার লোকো ইর্নচাজ খালেক স্যার যে ভাবে কাজ করতে বলেন আমি সেই ভাবে কাজ করি, আমার কি দোষ?

ছুটি নিলে ডিউটি দেখিয়ে মাইলেজ নেওয়া যাবে না এ কারনে সান্টার সরোয়ার আলম ২০১৭ সালে ১৫ দিন চিত্তবিনোদন ছুটি ছাড়া ২০১৬ইং হতে ২০১৮ই পর্যন্ত এ তিন বছরে কোন ছুটি নেয়নি। ব্যাক্তিগত ও বিবিধ কাজে কর্মস্থলের বাহিরে  থাকলেও কর্ম স্থলে ২৪ ঘন্টা  ডিউটি দেখিয়ে প্রতিদিন ৩০০ মাইল মাইলেজ হিসাবে সরকারী বেতন ভাতা নিয়েছে। যাহা তদন্ত করলে সত্যতা পাওয়া যাবে। এ বিষয়ে তার সাথে কথা বলার জন্য  বার বার তা মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া না যাওয়ায়  মন্তব্য নেওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে, উর্দ্বতন উপ সহকারী প্রকৌশলী লোকো সেড ইর্নচাজ মোঃ আব্দুল খালেক মন্ডলের সাথে দেখা করে তার অফিসে স্বাক্ষাৎকার নিতে গেল তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার স্বাক্ষাৎকার নিতে রাজবাড়ী প্রেসক্লাবের সভাপতির লিখিত অনুমতি লাগবে এ কথা বলে বলে রেগে যান তিনি। তার পর আবার বলেন আমার উর্দ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া কোন তথ্য দিতে পারবে না এবং এসব নিয়ে লেখা লেখি করে লাভ হবে না, বংর যে লিখবে সে বিপদে পড়বে, তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজীর অভিযোগ করবো বলেও তিনি হুমকী প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে, পাকশী রেলওয়ের বিভাগীয় যান্তিক প্রকৌশলী (লোকো ডিএমই) মোঃ হাসানুজ্জামান বলেন, লোকো ইর্নচাজ ছুটিতে আছেন আপনি তার সাথে গিয়ে যোগাযোগ করেন বলে মোবাইল ফোনের লাইন কেটে দেন।

এ ব্যাপারে রেলওয়ের বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে সকল অনিয়ম দুর্নীতির ও সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহার সহ নানা অফিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে।

চলবে………..

(সকল তথ্য প্রমান এ প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত আছে)

Comments

comments