আজ : বৃহস্পতিবার, ১৩ই জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ী বালু মহল থেকে ইজারাদার কামায় ৮৫ কোটি, সরকার পায় সোয়া কোটি টাকা (পর্ব-২)


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৫:৫১ অপরাহ্ণ ,২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ | আপডেট: ১১:১০ অপরাহ্ণ ,২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯
রাজবাড়ী বালু মহল থেকে ইজারাদার কামায় ৮৫ কোটি, সরকার পায় সোয়া কোটি টাকা (পর্ব-২)

নিজস্ব প্রতিনিধি।। রাজবাড়ী জেলা সদরের ৩টি বালু মহল বছর চুক্তিতে নাম মাত্র টাকায় ইজারা নিয়ে দিনে-রাতে ২০/২২ টি ড্রেজার দিয়ে পদ্মা নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিত ভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা বিক্রি করে চলেছে একটি প্রভাবশালী মহল।

জানাযায়, রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া-দাওয়াপাড়া এলাকার পদ্মা নদীর “চর নরসিংহদিয়া” বালু মহলটি ২৫ লাখ ২০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছে দিপক কুন্ডু। আর “চর জাজিরা” বালু মহল ৭২ লাখ টাকা ও “চর পদ্মা” বালু মহলটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে ইজারা নিয়েছে মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান শরিফ। প্রতি বছর বালু মহল ইজারা দিয়ে থাকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে।

উক্ত, ৩টি বালু মহল ইজারা দিয়ে ১ বছরে সরকারের খাতায় টাকা জমা পরেছে মাত্র ১ কোটি ২২ লাখ ৭০ হাজার টাকা। আর, সেই বালু বিক্রি করে ইজারাদাররা মাসে কামিয়ে থাকে অন্তত ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ও বছরে পেয়ে থাকে প্রায় ৮৪/৮৫ কোটি টাকা।

এদিকে, বালির বস্তা ফেলে ও সিসি ব্লক দিয়ে নদীর পাড় ভাঙ্গন প্রতিরোধের জন্য সরকার ১১/১২ বছরে ব্যয় করেছে অন্তত ৭/৮শ কোটি টকা। কাজ এখনো চলছে। পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, বালু মহল ইজারা দেওয়াতে ক্ষতি হচ্ছে সরকারের ও জনসাধারণের, আর লাভবান হচ্ছে হাতে গোনা মাত্র দু/তিন জন ব্যক্তির।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৯/১০ বছর ধরে বালু মহলগুলো ইজারা নিয়ে অপরিকল্পিত ভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করছে। ২০/২২ টি ভাসমান ড্রেজার দিয়ে বালি তুলে বলগেট নামক জাহাজে ও ট্রলারে করে বালি পাচার করছে আশপাশের বিভিন্ন জেলায়। এছাড়াও ৪০/৪৫ কিলোমিটার এলাকায় নদী পাড়ের বিভিন্ন ঘাটে স্তুপ করা হচ্ছে বালু। সেই স্তুপ থেকে ট্রাকে করেও সরবরাহ করা হচ্ছে পাশ্ববর্তী জেলা/উপজেলার বিভিন্ন স্থানে। এভাবে দিনে অন্তত ১০/১২ লাখ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করে চলছে।

                              

আবার, রাজবাড়ী জেলা সদরের বাইরের অন্য কোন চর বালু মহলের বালির বলগেট রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া-দাওয়াপাড়া এলাকার পদ্মা নদীর পানির উপর দিয়ে গেলে চর নরসিংহদিয়া, চর জাজিরা চর পদ্মা বালু মহলের মালিকদেরকে একেকটি বলগেট প্রতি ২৫/৩০ হাজার টাকা চাঁদা দিয়ে যেতে হয়।

রাজবাড়ী জেলা সদরের জৌকুড়া-দাওয়াপাড়া এলাকার পদ্মা নদী থেকে এভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে রাজবাড়ী জেলা শহর রক্ষা বাধ বেশি দিন টিকবেনা।

এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বালু উত্তোলনের ফলে সাধারন মানুষ রয়েছে নির্বিকার। এতে নদী তীরবর্তী বসতি এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি হুমকিতে আবার রাজবাড়ীর শহর রক্ষা বাঁধও রয়েছে হুমকির মুখে। বালু তোলার কাজে এখন অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ক্ষমতাসিন দলের এক নেতার যোগসাজশের একটি ভয়ংকর প্রভাবশালী গ্রুপ। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস করেনা। কেউ প্রতিবাদ করলে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা হয় অথবা সন্ত্রাসী দ্বারা লাঞ্চিত হতে হয়, আবার কখনো হত্যা করে নদীতে ফেলা দেওয়া হয়। এই বালি মহল ইজারা বন্ধের দাবিতে

জেলা আইনশৃঙ্খলা সভায় বার বার বালু মহল ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে ও বালু উত্তোলন বন্ধের জন্য করার দাবি জানিয়ে আসছেন-রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরমত আলী।

                                  

এ বিষয়ে- ২রা ডিসেম্বর-১৯ সোমবার বেলা ১১.টার দিকে রাজবাড়ীর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা বালু মহল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সাবেক শিক্ষাপ্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বলেছেন-যে সমস্ত বালু মহল নদী ভাঙ্গনের জন্য হুমকি স্বরুপ, সে সকল বালু মহল ইজারা দেওয়ার ব্যাপারে ও বালু উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেছেন- পদ্মা নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তীরবর্তী এলাকার হাজার হাজার একর জমি, ঘর-বাড়ী, স্কুল, মসজিদসহ নানা প্রতিষ্ঠান নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হলে নদী ভাঙ্গন অব্যাহত থাকবে। সে কারনে রাজবাড়ী সদর উপজেলার ধাওয়াপাড়র ঘাট সংলগ্ন বালু মহল সহ যে সমস্ত বালু মহল নদী ভাঙ্গনের জন্য হুমকি স্বরুপ, সে সকল বালু মহল ইজারা না দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

                         

নদীর বুক থেকে এভাবে বালি উত্তোলন করায় নদী তীরবর্তী বসতি ও হাজার হাজার একর ফসলি জমি হুমকির মুখে পড়েছে। রাজবাড়ীর শহর রক্ষা বাঁধও রয়েছে হুমকির মুখে। বালু তোলার কাজে এখন অনেকটাই বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন বহিরাগত ও স্থানীয় যোগসাজশের একটি ভয়ংকর প্রভাবশালী গ্রুপ। এদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতিবাদ করার বা কোন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশেরও সাহস করেননা। কেউ প্রতিবাদ করা বা সংবাদ প্রকাশের চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে হয়রানীমূলক মিথ্যা মামলা হয় অথবা সন্ত্রাসী দ্বারা লাঞ্চিত হতে হয়। আবার এদের উপেক্ষা করে কেউ যদি বেশি দূর্সাহসীক দেখানোর চেষ্টা করে,তাহলে তাকে যে কোন ভাবে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়ে থাকে বলেও অনেকে মনে করেন।

রাজবাড়ীবাসির ক্ষতি সাধন করে, দীর্ঘদিন ধরে যারা এই বালি ব্যাবসা ও চাঁদাবাজির সাথে জড়িত অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে স্থানীয় আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতার নাম জানাগেছে।      চলবে….  (পর্ব-২)

Comments

comments