আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সীমাহীন জনদুর্ভোগ! দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২৯ ঘন্টা পর যান চলাচল শুরু


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৮:৩৮ অপরাহ্ণ ,৪ মে, ২০১৯ | আপডেট: ১:৪২ পূর্বাহ্ণ ,৬ মে, ২০১৯
সীমাহীন জনদুর্ভোগ! দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ২৯ ঘন্টা পর যান চলাচল শুরু

গোয়ালন্দ সংবাদদাতা।। ঘুর্নিঝড় ফণীর প্রভাবে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যাস্ততম দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ৩ দিন পর লঞ্চ চলাচল ও ২৯ ঘন্টা পর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। ৩ মে-১৯ শুক্রবার বেলা ২.টায় ব্যাস্ততম এ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে পরেরদিন শনিবার সন্ধ্যা ৭.টায় ফেরি চলাচল শুরু হয়। এতে করে উভয় পাড়ে সহস্রাধিক যানবাহন ও অসংখ্য যাত্রী আটকা পড়ে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
শনিবার দুপুরে সরেজমিন দেখা গেছে, এ নৌরুটে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দূর্ভোগে পড়েছেন অসংখ্য যাত্রী ও যানবাহনের চালকরা।
দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় নদী পারের অপেক্ষায় প্রায় ৬/৭ কিমি জুড়ে মহাসড়কে আটকা আছে অন্তত ৬/৭ শতাধিক বিভিন্ন যানবাহন। এর মধ্যে প্রায় ৩ কিমি জুড়ে ২ সারিতে এবং ২ কিমি জুড়ে ১ সারিতে যানবাহনগুলো স্থির দাড়িয়ে আছে। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়ছে যানবাহনের দির্ঘ্য সারি। পাটুরিয়া ঘাটেও একই ভাবে প্রায় ৫ শতাধিক যানবাহন আটকা থাকার খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। আটকে থাকা যাত্রীরা দিনভর বৃষ্টির মধ্যে ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও প্রাকৃতিক কর্মে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ অবস্থায় বহু যাত্রী ঘাট থেকে জনপ্রতি ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া মিটিয়ে কুষ্টিয়ার লালন শাহ ও যমুনা সেতু ঘুরে ঢাকা উদ্দেশ্যে রওনা দিতে দেখা যায়। অনেকেই অনন্যপায় হয়ে বাড়ীর উদ্দেশ্যে ফিরে যান।
এদিকে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে থেকে অনেক যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে নদী পার হচ্ছেন। পুলিশী তৎপরতা থাকলেও তাদের চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেক ট্রলার চালক দিনভর সুযোগ বুঝে উত্তাল পদ্মা-যমুনায় যাত্রী পারাপার করছেন। এ ক্ষেত্রে তারা যাত্রীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৩শ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত আদায় করছে। সাধারণ সময় ট্রলার ভাড়া যাত্রী প্রতি ৩০ টাকা।
বিআইডব্লিউটিসি ও অন্যান্য সুত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুরের পর থেকে ঘুর্নি ঝড় ফণীর প্রভাবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট এলাকায় পদ্মা-যমুনা নদী উত্তাল হয়ে ওঠে। বড় বড় ঢেউ, তীব্র বাতাস ও বৃষ্টির কারণে নৌ চলাচল ঝুকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ অবস্থায় দুপুর ২ টার দিকে নৌদূর্ঘটনা এড়াতে রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় কতৃপক্ষ। এ আগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টা থেকে বন্ধ রাখা হয়েছে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ও আরিচা-কাজীর হাট রুটের লঞ্চ চলাচল। শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ফেরি চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) শফিকুল ইসলাম জানান, শনিবার বেলা পৌনে ৪টার দিকে সংক্ষিপ্ত আকারে ইউটিলিটি ফেরি চালু করলেও রুটের ১৫টি ফেরির মধ্যে পাটুরিয়া ঘাটে ১০টি ও দৌলতদিয়া ঘাটে ৫টি যাত্রী যানবাহন বোঝাই করে বসে আছে। ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় নদী পারের অপেক্ষায় সিরিয়ালে রয়েছে প্রায় ৪ শতাধিক যানবাহন। আবহাওয়ার পূর্বাভাস কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় পুনরায় ফেরি চলাচল শুরু হয়।

Comments

comments