আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দের দেবগ্রামে ভবন বিহীন সরকারি স্কুলে দুর্ভোগ


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ৯:০৫ অপরাহ্ণ ,১৭ এপ্রিল, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৫ অপরাহ্ণ ,১৯ এপ্রিল, ২০১৯
গোয়ালন্দের দেবগ্রামে ভবন বিহীন সরকারি স্কুলে দুর্ভোগ

উজ্জল চক্রবর্ত্তী-স্টাফ রিপোর্টার।। নাম সুনাম দু’টোই আছে, নেই শুধু ভবন। অথচ সুনামের সহিত ৪৭ বছরের ঐতিয্য বহন করে আসছে এই বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি।দুঃখের বিষয় হলো, অবকাঠামোর কারনে আজ ধবংসের দ্বারপ্রান্তে দঁড়িয়ে সরকারি স্কুলটি।

স্কুলের সাইন বোর্ডের লেখা থেকে ও কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানাযায়, ১৯৭৩ সালে ২৭নং বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার পর থেকে সুনামের সাথে প্রায় অর্ধ শত বছর পার করে এসেছে। এই স্কুল থেকে শিক্ষা অর্জন করে দেশের বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালন করছে অনেকে। কিন্ত পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে স্কুলটি ৩ বার ভাঙন কবলে পরে। সর্বশেষ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের কাউলজানি জলিল মুন্সির পাড়ায় এসে অবস্থান করেছে এই স্কুল। কাউলজানি এসে বেসরকারি একটি এনজিও মালিকাধীন পরিত্যাক্ত চৌরি ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে। এক বছর পর জলিল মুন্সি ৩৩ শতাংশ জায়গা স্কুলের নামে রেজিষ্টারি করে দেয়। তবে একাধিক বার নদী ভাঙনের কারণে স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিছিন্ন হয়ে যায়। কাউলজানি এলাকায় অবস্থান নেওয়ার পর পুনরায় ছোট একটি ছাপড়া ঘরে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করতে হয়। কিন্ত ছোট একটি ছাপড়ায় পাঠদান করায়  স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের রোদ-বৃষ্টি’র মধ্যে চরম দুর্ভোগের মধ্যোদিয়ে পাঠদান করতে হয়ে। এমন দুর্ভোগ শিকার করেও পাঠদান চলছে স্কুলে। এদিকে কয়েক দিন আগে কাল বৈশাখীর ঝড়ে একটি মাত্র ছাপড়া ছিন্ন-বিছিন্ন হয়ে যায়। এভাবে চলছে পাঠদান। ভয়-আতংক করেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে হচ্ছে।

স্কুলের একাধিক শিক্ষার্থী এক সাথে বলে, এই স্কুলে পড়তে অনেক ভয় লাগে। রোদের সময় রোদ লাগে। আবার বৃষ্টিতেও ভিজতে হয়। ঝড় আসলে খুব ভয়লাগে, যে কারণে অনেকে স্কুলে আসেনা। সরকার যদি আমাদের একটি স্কুল বানিয়ে দিত তাহলে আমরা ভালভাবে পড়া-লেখা করতে পারতাম।

স্কুলের হাজিরা খাতা ও প্রধান শিক্ষকের তথ্য সূত্রে জানাযায়, স্কুলে প্রাক প্রাথমিক শাখায় ১৪জন, প্রথম শ্রেণীতে ২৩জন, দ্বিতীয় শ্রেণীতে ১০ জন, তৃতীয় শ্রেণীতে ৩জন, চতুর্থ শ্রেণীতে ১১ জন ও পঞ্চম শ্রেণীতে মাত্র ৪জনসহ মোট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে ৬৮জন। কিন্ত প্রধানশিক্ষকসহ ৬জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।

স্কুলের জমিদাতা’র ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম মুন্সিব লেন, এই স্কুল পদ্মা নদীর ভাঙনের কারণে বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল। আমার বাবা এই স্কুলের নামে ৩৩ শতাংশ জায়গা দেওয়ায় এখানে স্কুলটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্ত স্কুলের কোন ভবন না থাকায় ছাত্র-ছাত্রী আসতে চায়না। তাই যত তাড়াতারি সম্ভব এই স্কুলের একটি ভবন প্রয়োজন।

স্কুলের সহকারী শিক্ষক এনামুল হক বলেন, স্কুলটি নদীর পারে। এখানে জনবসতি সীতিত। আবার স্কুলের কোন ভবন না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা প্রাকৃতিক দূর্যগোর ভয়ে আসতে চায়না। তাই এই স্কুলের সুনাম ধরে রাখতে হলে অবশ্যই জরুরী ভিপ্তিতে একটি ভবন প্রয়োজন। যতদিন ভবন হবেনা তত দিন পাঠদান করার জন্য ব্যবস্থা নিতেহবে। প্রাথমিক ভাবে স্কুলের পাঠদানের ব্যবস্থা করলে স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী ধরেরাখা সম্ভব।

বেথুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা তেমন কেউ অবগত না থাকার কথা স্বীকার করে গোয়ালন্দ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষাকর্মকর্তা মোঃ আঃ মালেক বলেন, স্কুলের যে কোন সমস্যা অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments

comments