আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

বালিয়াকান্দিতে জরিমানার পরও সক্রিয় নকল প্রসাধনী উৎপাদন


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ১১:৪০ অপরাহ্ণ ,১৫ এপ্রিল, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৪২ অপরাহ্ণ ,১৬ এপ্রিল, ২০১৯
বালিয়াকান্দিতে জরিমানার পরও সক্রিয় নকল প্রসাধনী উৎপাদন

বালিয়াকান্দি প্রতিবেদক।। বিভিন্ন ধরনের পাউডার, আটা, নিন্মমানের কেমিক্যাল ব্যবহার করে তৈরী করা হচ্ছে শ্যাম্পু, তৈল, ডিটারজেন পাউডার, সাবানসহ নানা ধরনের পণ্য। এসব নকল পন্য বাজারজাত করছে। ফলে প্রতারিত হচ্ছে সাধারন মানুষ।
রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর বাজারে উৎপাদনে সক্রিয় নকল প্রসাধনী চক্র। জরিমানা ও মামলা হলেও বন্ধ হচ্ছে না এর কার্যক্রম। এলাকায় প্রশ্ন উঠেছে মালিকের খুটির জোড় কোথায়? কেন বন্ধ হচ্ছে না অনুমোদন বিহীন এ কারখানা।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল (বালিয়াকান্দি) টেম্পু স্ট্যান্ড এলাকার আলহাজ্ব শাহজাহান মাষ্টারের বাড়ী ২ মাস পুর্বে ভাড়া নেয় উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের পোটরা গ্রামের বিকাশ রঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে বিচিত্র বিশ্বাস। ভাড়া নিয়েই কয়েকজন কর্মচারী ও মেশিন বসিয়ে নকল প্রসাধনী ও কসমেটিস জাতীয় শ্যাম্পু, তৈল, সাবান, ডিটারজেন পাউডার তৈরী করে আসছে। তারা ইতিমধ্যেই ডবোরত্ন তৈল, সুপার এক্সেল পাউডার, রিম ডিটারজেন পাউডার, সুপারসিলক শ্যাম্পু, মদিনা সরিষা তৈল বাজার জাত করে। সরিষার তৈলের গায়ে সাভারের এ্যারোমা ফুড প্রডাক্টস, এসকল নকল পন্য ক্রয় করে সাধারন মানুষ প্রতারিত হয়েছে। পন্যের গায়ে বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানীর নাম ব্যবহার করা হয়। বিএসটিআইয়ের নেই কোন অনুমোদন। ওই নকল প্রসাধনী কারখানায় মালামাল ছড়ানো-ছিটানো রয়েছে। বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সাধুখালী গ্রামের নৃপেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের ছেলে মিলন বিশ্বাস, সুনামগঞ্জ জেলার তাহেরপুর থানার রতনপুর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে নবাব মিয়া, তার ভাই সোহেল মিয়া, সবুজ মিয়াসহ ৫জন কর্মচারী কাজ করে। তারা বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করে সাধারন মানুষের ব্যবহারের জন্য প্রসাধনী সামগ্রী করা হয়।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি শহরের শহরের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত বহরপুর ইউনিয়নের ইলিশকোল টেম্পুস্ট্যান্ড এলাকায় প্রকাশ্যে পরিচালনা করে আসছিল অবৈধ কারখানায় উৎপাদন। ২০১৭ সালের ১৯ জুন তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার এইচ এম রকিব হায়দার, বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) আবুল কালাম ভুইঞা, এস,আই কায়সার হামিদসহ থানা পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়েছে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৪৩ ধারায় এক লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়।
এ অভিযানের পর এখান থেকে কারখানা গুটিয়ে নিয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর বাজার এলাকায় প্রকাশ্যে চলছিল এ অবৈধ কারখানার উৎপাদন ও সরবরাহ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২০১৮ সালের ২৮ জুন রাজবাড়ী ডিবি পুলিশের সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে বিপুল পরিমান নকল প্রসাধনী ও নকল সরঞ্জাম জব্দ করে। উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর বাজারে ঘর ভাড়া নেয় বিকাশ বিশ্বাসের ছেলে বিচিত্র বিশ্বাস। ভাড়া নিয়েই কয়েকজন কর্মচারী ও মেশিন বসিয়ে নকল প্রসাধনী ও কসমেটিস জাতীয় শ্যাম্পু, তৈল, সাবান, ডিটারজেন পাউডার তৈরী করে আসছে। তারা ইতিমধ্যেই ডবোরত্ন তৈল, সুপার এক্সেল পাউডার, রিম ডিটারজেন পাউডার, সুপারসিলক শ্যাম্পু, মদিনা সরিষা তৈল বাজার জাত করেছে। সরিষার তৈলের গায়ে সাভারের এ্যারোমা ফুড প্রডাক্টস, এসকল নকল পন্য ক্রয় করে সাধারন মানুষ প্রতারিত হয়েছে। পন্যের গায়ে বিভিন্ন নামী-দামী কোম্পানীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। বিএসটিআইয়ের নেই কোন অনুমোদন। এব্যাপারে থানায় মামলা দায়ের হলে গাঢাকা দেয় বিচিত্র বিশ্বাস। তারপরও থেমে নেই কার্যক্রম।
২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল বালিয়াকান্দি উপজেলার জঙ্গল ইউনিয়নের সমাধিনগর গ্রামে গড়ে ওঠা ওই নকল ডিটারজেন পাউডার উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সদস্যরা। তারা অভিযান চালিয়ে প্রায় ১০৮ বস্তা নকল ডিটারজেন পাউডার জব্দ করার পাশাপাশি ওই কারখানার মালিকের কাছ থেকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।
ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো: শরিফুল ইসলাম জানান, তার নেতৃত্বে ওই ইউনিয়নের সমাধিনগর গ্রামের মৃত বিপ্র প্রসাদ বিশ্বাসের ছেলে বিকাশ রঞ্জন বিশ্বাস (৬০) কর্তৃক গড়ে তোলা নকল ডিটারজেন পাউডার উৎপাদনকারী কারখানায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রায় ৩ ঘন্টা ব্যাপী ওই অভিযান শেষে দুই লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ কাঁচামাল জব্দ করা হয়। পরে জব্দকৃত কাঁচামাল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাজবাড়ী জেলা কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেই সাথে কারখানা মালিকের কাছ থেকে আদায় করা হয় ৪০ হাজার টাকা জরিমানা।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এদিকে ভ্রাম্যমান আদালত, মামলা ও জরিমানা করা হলেও কার্যক্রম থেমে নেই এ নকল কারখানা। এতে প্রতিনিয়তই প্রতারিত হচ্ছে। তবে বন্ধ হচ্ছে না কেন? মালিকের ক্ষমতার উৎস কোথায়? তারা জেলা প্রশাসনকে জরুরী পদক্ষেপ গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন।

Comments

comments