আজ : রবিবার, ২৩শে জুন, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

গোয়ালন্দে কালবৈশাখীর ছোবলে ঋণগ্রস্থ নারী উদ্যোক্তা নাজমার স্বপ্ন লন্ডভন্ড


প্রতিবেদক
জনতার মেইল.ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪০ অপরাহ্ণ ,১ এপ্রিল, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪৮ অপরাহ্ণ ,১ এপ্রিল, ২০১৯
গোয়ালন্দে কালবৈশাখীর ছোবলে ঋণগ্রস্থ নারী উদ্যোক্তা নাজমার স্বপ্ন লন্ডভন্ড

গোয়ালন্দ সংবাদাতা।।  ব্র্যাক থেকে টাকা ঋণ নিয়ে নিজেকে স্বাবলম্বী করতে মুরগির খামার গড়ে তুলেন নাজমা সরোয়ার। পরিকল্পনা অনুযায়ি খামারে তোলেন ৪ হাজার লেয়ার মুরগীর বাচ্চা। ওই বাচ্চাগুলো বড় হয়ে ৫ মাস পরেই ডিম দিবে। সেই ডিম বিক্রি করে ঋণের কিস্তিসহ চলবে তার সংসারের চাকা। এই স্বপ্ন দেখছিল নারী উদ্যোক্তা নাজমা সরোয়ার। নাজমার  সেই স্বপ্ন ৩১শে মার্চ-১৯ রোববার রাতে কেড়ে নিলো কালবৈশাখী ঝড়। ঋনের কিস্তি কিভাবে পরিশোধ করবে সেই নিয়ে এখন চিন্তিত নারী উদ্যোক্তা নাজমা বেগম।

নাজমা গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের নবওছিমদ্দিন  গ্রামের সরো মোল্লার স্ত্রী।

সকালে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মের টিনের ছাউনীর ফাঁকে হাত লাগিয়ে মুরগী গুলো উদ্ধারের চেষ্টা করছিলো সরোয়ার ও নাজমা বেগম। কিন্তু পেলেন না। প্রায় ৩০০শত মুরগী মারা গেছে কালবৈশাখীর ছোবলে।

নাজমা বলেন, ‘বেকারত্বের অভিশাপ মোচনে নিজেকে স্বাবলম্বী করে সংসারের চাকা সচল করতে বছর কয়েক  আগে ব্র্যাক থেকে ঋণ নিয়ে পোল্ট্রি ফার্মটি গড়ে তুলি। প্রথমে মুরগির মাংস উৎপাদন করে ভাল মুনাফাও পেয়েছিলাম। মাংসের চেয়ে মুরগীর ডিমের চাহিদা বেশি হওয়ায় লেয়ার বাচ্চা পালনের সিদ্ধান্ত নিই। তাই ঋণের পরিমান বাড়িয়ে  লেয়ার মুরগীর বাচ্চা ক্রয় করি । সারাদিন মুরগীর বাচ্চাগুলোকে খাইয়েছি পরম যত্নে। কিন্তু রবিবার সন্ধ্যায়  কালবৈশাখীর ছোবলে লন্ডভন্ড হয়ে গেলো আমার স্বপ্ন। নাজমা বেগম আরও বলেন, স্নাতক পাশ করেও বেকার থাকব তা হতে পারে না। তাই ঋণের টাকায় পল্ট্রি ফার্মটি গড়ে তুলি। কিন্তু কালবৈশাখী ঝড় আমাকে ঋনের বোঝা মাথায় দিয়ে গেল। এখন স্বপ্নটা বড় দুঃস্বপ্ন হয়ে গেল। ঋনের কিস্তি কি করে পরিশোধ হবে।

উল্লেখ্য, ৩১ মার্চ-১৯ রোববার সন্ধ্যায় হঠাৎ ঝড়-বৃষ্টিতে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ  উপজেলার কয়েক হাজার ঘর-বাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিপনী বিতান লন্ডভন্ড হয়ে যায়। অসংখ্য গাছপালা ও বৈদ্যুতিক খুটি উপড়ে পড়ে গেছে।

Comments

comments